default-image

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ তাঁর ফেসবুক পেজে ছোট্ট করে লিখেছিলেন। তিনি লিখলেন, আগামী বছর অমর্ত্য সেনের ৪০০ পৃষ্ঠার আত্মজীবনী প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ঢাকার বাল্যকাল দিয়েই তাঁর স্মৃতিচারণা শুরু: সে সময় নৌপথে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জের পৈতৃক বাড়িতে যাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে বাংলাদেশের নদী নিয়ে একটি অধ্যায়ও আছে।
এটা দেখেই ইন্টারনেটের জগতে ঢুঁ মারতেই পাওয়া গেল আরও কিছু তথ্য। বইটা বের করছে যুক্তরাজ্যের নামী প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন। ৪১৬ পৃষ্ঠার বইটির নাম ‘হোম ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’। আসবে ২০২১ সালের ১ জুলাই। এরই মধ্যে বইটি আগে থেকে কিনে রাখা বা প্রি-অর্ডারের ব্যবস্থা করেছে প্রকাশনী সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন
default-image

পেঙ্গুইন বইটি নিয়ে ছোট্ট একটি ভূমিকাও তাদের সাইটে প্রকাশ করেছে। ভূমিকাটি এ রকম:
বাড়ি কোথায়? অমর্ত্য সেনের বাড়ি তো একটি নয়, একাধিক—ঢাকা শহরে তাঁর বেড়ে ওঠা, শান্তিনিকেতনে পিতা–মাতার সঙ্গে পিতামহ-পিতামহীর ছায়ায় বড় হয়ে ওঠা, অর্থনীতির প্রথম পাঠ কলকাতা শহরে, যে শহরে তিনি ছাত্ররাজনীতিও করেছেন, এরপর ১৯ বছর বয়সে ট্রিনিটি কলেজে যাওয়া—এই সব স্থানই তাঁর বাড়ি হয়ে উঠেছে।
এই প্রত্যেক স্থানের অভিজ্ঞতা অমর্ত্য সেন চমৎকারভাবে বিবৃত করেছেন। পড়লে মনে হবে, সেই অভিজ্ঞতার যেন পুনর্জন্ম হয়েছে।

তাঁর চিন্তার মূলে আছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের বুদ্ধিবৃত্তির অর্গল খুলে দেওয়া পরিবেশ এবং কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউসের প্ররোচনামূলক আড্ডা। বলা বাহুল্য, তাঁর নামটিও রবীন্দ্রনাথের দেওয়া। কেমব্রিজে স্নাতকের ছাত্র থাকার সময় তিনি সেখানকার শীর্ষস্থানীয় চিন্তকদের সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। এই আত্মজীবনী গ্রন্থে যেমন নানামুখী চিন্তার সমাবেশ ঘটেছে, তেমনি ব্যক্তি ও স্থানের সমাবেশও ঘটেছে। কার্ল মার্ক্স থেকে শুরু করে কেইনস, অ্যারো—কে নেই এখানে।

বিজ্ঞাপন

বইয়ের এক স্মরণীয় অধ্যায়ে অমর্ত্য সেন ‘বাংলার নদীর’ স্মৃতিচারণা করেছেন। এই নদীপথে তিনি পিতা-মাতার সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে যেতেন। বইয়ে তিনি বাংলার ঐতিহাসিক সংস্কৃতি যেমন চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তেমনি হিন্দু-মুসলমানের রাজনৈতিক বৈরিতা তেতে ওঠার ইতিহাসও তুলে এনেছেন। এ বিভেদের বিরোধিতার ইতিহাসও তুলে এনেছেন তিনি। ১৯৪৩ সালের বাংলার মন্বন্তর এবং তার করুণ পরিণতি স্বচক্ষে দেখেছেন তিনি। এ সময় ব্রিটিশ সরকারের বিরোধিতার কারণে অমর্ত্য সেনের কয়েকজন আত্মীয় কারাবরণ করেন। সে জন্য স্বাভাবিকভাবেই ব্রিটেন ও ভারতের সম্পর্ক তাঁর বইয়ের আরেকটি বিষয়বস্তু। আর ব্রিটেনের অন্যতম সেরা বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গা ট্রিনিটি কলেজে ছাত্র হিসেবে পা দেওয়ার ৪৫ বছর পরে তিনি সেখানকার মাস্টার বা অধ্যক্ষ হন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

এবার আরেকটি বাড়তি তথ্য। পেঙ্গুইন, ভারত থেকে অমর্ত্য সেন নিয়ে আরেকটি বই প্রকাশ করছে এ মাসেই। বইটির নাম ‘হাউ টু রিড অমর্ত্য সেন’। এর লেখক লরেন্স হ্যামিলটন ইউনিভার্সিটি অব উইটস এর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক। আগ্রহীরা এই বইও পড়ার তালিকায় রাখতে পারেন।
অমর্ত্য সেন একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক। দুর্ভিক্ষ, মানব উন্নয়ন তত্ত্ব, জনকল্যাণ অর্থনীতি ও গণদারিদ্র্যের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে গবেষণা এবং উদারনৈতিক রাজনীতিতে অবদান রাখার জন্য ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পান। অমর্ত্য সেনের জন্ম শান্তিনিকেতনে মাতামহ ক্ষিতিমোহন সেনের পর্ণকুটিরে। তাঁর আদি নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মানিকগঞ্জে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর নাম রেখেছিলেন অমর্ত্য, যার অর্থ অমর বা অবিনশ্বর।

মন্তব্য পড়ুন 0