বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ব্যবসায়ীদের বিনা মূল্যে ইএফডি মেশিন দেবে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একেকটি মেশিনের দাম পড়বে ২০ হাজার ৫৩৩ টাকা।

ভ্যাট মেশিনের দাম নির্ধারণ

সম্প্রতি ইএফডি মেশিনের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একেকটির দাম ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৫৩৩ টাকা, যা এককালীন বা তিন মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেশিন বসানোর এক মাসের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১০ হাজার ৫৩৩ টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরের দুই মাসে ৫ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা যাবে।

ইএফডির পাশাপাশি সেলস ডেটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) মেশিনও বসানো হবে। ওই মেশিনের দামও ঠিক করেছে এনবিআর। একেকটি এসডিসির দাম পড়বে ২৪ হাজার ৫৯৬ টাকা। সে ক্ষেত্রে প্রথম মাসে ১২ হাজার ৫৯৬ টাকার পরিশোধ করতে হবে। পরের দুই মাসে ছয় হাজার টাকা করে পরিশোধ করে মেশিনের মালিক হয়ে যাবেন ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে সাড়ে তিন লাখের মতো দোকান আছে। আর সারা দেশে রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ দোকান। বিপণিবিতানের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় হরেক রকমের বাহারি ব্যবসা করেন ছোট ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এই দাম আমরা মানি না। বাজারে এই মেশিনের দাম এত নয়, ৮-১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এই দাম ঠিক করেনি এনবিআর।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, চীন থেকে কত দাম দিয়ে ভ্যাটের মেশিন আমদানি করা হয়েছে? ক্রেতা হিসেবে আমদানি মূল্য জানার অধিকার আমাদের আছে।’

এ বিষয়ে এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের সদস্য আবদুল মান্নান শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, সরকার কেনা দামেই ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের মেশিন দিচ্ছে; বরং এনবিআরকে কিছু টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। প্রথম দিকে বিনা মূল্যে দিলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া মেশিনের মালিক তো ব্যবসায়ীরা, টাকা দিয়ে কিনলে মেশিনের প্রতি যত্নবান হবেন তাঁরা।

ভ্যাটের মেশিনের ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন পুরান ঢাকার ছোট ব্যবসায়ীরা। কারণ, সেখানকার ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার রেওয়াজ কম। অনেকে টালি খাতায় হিসাব রাখেন।

পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের নেতা ও বাংলাদেশ ব্যবসায়ী ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু মোতালেব প্রথম আলোকে জানান, পুরান ঢাকার ছোট ব্যবসায়ীদের প্রায় সবাই করোনার কারণে লোকসানে পড়েছেন। তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভাড়া ও কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়ে গেছে। এখন যদি ভ্যাটের মেশিন কেনার জন্য আরও ২০ হাজার টাকা চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

বেচাকেনা যা–ই হোক না কেন, বর্তমানে ২৪ ধরনের ব্যবসায় ইএফডি মেশিন বসানো বাধ্যতামূলক। সেগুলোর মধ্যে মিষ্টি দোকান, রেস্তোরাঁ, ফাস্ট ফুডের দোকান, আবাসিক হোটেল, বিউটি পারলার, পোশাকের শোরুম, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, সুপারশপ, লন্ড্রি, জুয়েলারি বা গয়নার দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার বা জিম, গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য, বড় ও মাঝারি ব্যবসা (পাইকারি ও খুচরা) উল্লেখযোগ্য।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভ্যাট কমিশনারেটকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাটের মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিপণিবিতান বা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ঠিক করবেন, কোন কোন দোকানে ভ্যাটের মেশিন লাগবে। পরে ভেন্ডার প্রতিষ্ঠান এসজেডজেডটি-কেএমএমটি-এসওয়াইএনইএসআইএস-ইএটিএল জেভির প্রতিনিধি গিয়ে ওই দোকানে ভ্যাটের মেশিন বসিয়ে দিয়ে আসবেন। প্রতি মাসে কত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন বসানো হলো, তা এনবিআরকে জানাতে হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন