default-image

চরম দারিদ্র্য নিরসনে এশিয়া যথেষ্ট সফল। দিনে ১ দশমিক ৯০ ডলারের কম উপার্জন—এই মানদণ্ডের ভিত্তিতে ২০০২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমেছে ৮৪ কোটি ৬০ লাখ। কিন্তু কোভিড-১৯-এর ধাক্কায় সেই অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে।

এসডিজি (২০৩০ অ্যাজেন্ডা) বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রথম ও দ্বিতীয় অভীষ্ট হচ্ছে পৃথিবী থেকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করা। বিআইডিএসের হিসাব অনুসারে, প্রতিবছর গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হতো। কিন্তু কোভিডের ধাক্কায় সেই যাত্রা অনিশ্চিত। বাংলাদেশের মতো এশিয়ার অন্যান্য দেশের অবস্থাও একই রকম। এই পরিস্থিতিতে এসডিজির দারিদ্র্যমুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হুমকির মুখে পড়েছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

বিজ্ঞাপন
এসডিজির ১৭টি অভীষ্ট ধরে ধরে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০-২০১৮ সালে দেশে বৈষম্য বেড়েছে। এই অঞ্চলের নিচের সারির ৪০ শতাংশ জনগণের আয় এই সময়ে বেড়েছে।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রকাশিত কি ইন্ডিকেটর্স ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সূচক) শীর্ষক প্রতিবেদনে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের এসডিজি অর্জনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এই কোভিড-১৯-এর কারণে দারিদ্র্য বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

এসডিজির ১৭টি অভীষ্ট ধরে ধরে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০-২০১৮ সালে দেশে বৈষম্য বেড়েছে। এই অঞ্চলের নিচের সারির ৪০ শতাংশ জনগণের আয় এই সময়ে বেড়েছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, এই ৪০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির হার সমগ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির সমান। কিছু কিছু দেশে এই হার আবার কম, যেমন আর্মেনিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা—পার্থক্য ১ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ এই চারটি দেশে সমগ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির হার নিচের সারির ৪০ শতাংশ মানুষের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি। তাতে বৈষম্য বাড়ছে।
এডিবি বলছে, উন্নয়নশীল এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যবহার বেড়েছে। আর জিডিপির সাপেক্ষে জ্বালানি ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বাংলাদেশে।

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রায় শতভাগ সফলতা অর্জন করলেও প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে ছেলেশিশুদের প্রাক্-প্রাথমিকে ভর্তির হার দশমিক ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং মেয়েশিশুদের ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এই প্রতিবেদনে যেসব দেশের তথ্য আছে, তাদের পাঁচ ভাগের এক ভাগেই প্রাক্-প্রাথমিকে ভর্তির হার ৫০ শতাংশের নিচে।

অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যূনতম প্রশিক্ষণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবনতি হয়েছে। ২০০০ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হার ৩ শতাংশ কমেছে। যদিও এই সময়ে নেপালে সেই হার বেড়েছে ৮১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মিয়ানমারে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ।

মন্তব্য পড়ুন 0