বেতনের দাবিতে মহাখালীর জেমিনি গার্মেন্টসের দুই মালিককে গত শনিবার মধ্যরাত থেকে কারখানার ভেতরে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন জেমিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান ও পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
জানা যায়, চলতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ এতে ব্যর্থ হয়। পরে তারা আজ সোমবার ৫২৫ জন শ্রমিক-কর্মচারীর গত জানুয়ারি মাসের বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু টাকা জোগাড় করতে না পেরে মালিকেরা শনিবার গভীর রাতে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ খবর পেয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা তাঁদের দুজনকে উত্তরা হাউস বিল্ডিং এলাকা থেকে ধরে এনে কারখানায় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিষয়টির সমাধানে গতকাল রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিক নেতা, বিজিএমইএর কর্মকর্তা ও বনানী থানার এক উপপরিদর্শকের উপস্থিতিতে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের বৈঠক হয়। বৈঠকে থাকা টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, ‘শনিবার রাত দুইটায় উত্তরা থেকে মালিকদের ধরে এনে শ্রমিকেরা অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। মালিকেরা কবে বেতন দেবেন কিংবা কারখানা বন্ধ করলে ক্ষতিপূরণের কী হবে, সেটি এখনো সুরাহা হয়নি।’
অন্যদিকে বিজিএমইএর সহকারী সচিব কে এম মাহমুদুল ইসলাম গতকাল রাত পৌনে আটটায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বৈঠক করেছি। সমাধান হয়নি। মালিকপক্ষ প্রথমে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে আমরা বলেছি, কারখানা বন্ধ করলে নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের সব পাওনা দিতে হবে। এরপর মালিকপক্ষ বলেছে, তারা কারখানা চালাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি সুরাহা করতে কাল (আজ সোমবার) আবার আমরা বৈঠকে বসব।’
জানতে চাইলে অবরুদ্ধ ফজলুর রহমান স্বীকার করেন যে শ্রমিকেরা তাঁদের অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁরা পালানোর চেষ্টা করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা গাজীপুরে কারখানাটি স্থানান্তর করতে চাইছি। তবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে আমরা কারখানা বন্ধ করে দেব। আমরা শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে যাব। আশা করি, কাল (আজ) সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন