আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আপনারা (সিপিডি) সব সময় আমাদের দুর্নীতিবাজ বানিয়ে দিচ্ছেন। হোয়াট ইজ দিস (এটা কী)? ...আমরা এই মাটির সন্তান। আমরা আমাদের কাজ করছি। সব সময় নেতিবাচক কথা বললে তো হবে না।’

রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন আহমদ কায়কাউস। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব অডিটরিয়ামে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

সম্প্রতি করোনার টিকা কেনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে টিআইবি। সেই প্রসঙ্গটি টেনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘তারা বলেছে, করোনার টিকা ক্রয়ে গড়ে ৬৯ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। আমি টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে দর–কষাকষির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমরা নাকি দুর্নীতি করেছি! আমরা তো টিকাগুলো এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে কিনেছি।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে টিআইবির অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আহমদ কায়কাউস। তিনি টিআইবিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশকে চোর বলবেন, ফাজলামি নাকি?...টিআইবিতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করে অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানি বিএইচপি। পরিবেশদূষণের কারণে কোম্পানিটি বারবার জরিমানার মুখে পড়েছে। কেন তাদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন? আমাদের খালি চোর বলবেন; এটা তামাশা পেয়েছেন?’

বক্তব্যের একপর্যায়ে আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘দুর্নীতি নাই, সেটি বলব না। সরকারি দপ্তরের নিম্নপর্যায়ে দুর্নীতি আছে। আমরা সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি বলেন, ‘ইমানের সঙ্গে কাজ করার পরও ইমান ধরে যদি টানাটানি করেন, তখন বুকে খুব লাগে।’

পণ্য রপ্তানিতে বহুমুখীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে শুধু কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত না করে দেশের সব শিল্পকে সমান সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য মোস্তফা আবিদ খান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, মেট্রো চেম্বারের সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, পিডব্লিউসি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মামুন রশীদ, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রমুখ।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন