default-image

দেশের অন্যতম বড় সবজির মোকাম বগুড়ার মহাস্থানহাট। শীতকালে এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক সবজিবাহী ট্রাক ছেড়ে যায়। এই মোকামে আড়ত আছে ৭০-৮০টি। সবজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ২০০ জনের বেশি ব্যবসায়ী। আর জীবিকার সংস্থান হয়েছে ৫ হাজার শ্রমিকের।
কিন্তু টানা দেড় মাসের অবরোধ-হরতালে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে এখানকার কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। তাঁদের বাঁচাতে আইন করে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন অবরোধ-হরতালের আওতামুক্ত রাখতে হবে।
প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গত বৃহস্পতিবার মহাস্থান কাঁচা ও পাকা মাল আড়ত ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘সারা দেশে সবজি পাঠাতে না পারায় আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। সবজিসহ কৃষিজাত পণ্য পরিবহন হরতাল-অবরোধের আওতামুক্ত রাখার দাবিতে জেলা প্রশাসক-উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছেও গিয়েছি। কেউ সাড়া দেননি। আন্দোলন ছাড়া এখন আর পথ খোলা নেই।’
অক্টোবর-জানুয়ারি চার মাস এখানকার ব্যবসার ভরা মৌসুম। শীতকালিন প্রচুর সবজি এ সময় বাজারে উঠে। প্রতিদিন গড়ে ২০০ ট্রাক সবজি এবং ১০০ ট্রাক আলু ঢাকা, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সেই হিসাবে, এখানে প্রতিদিন
গড়ে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সবজি কেনাবেচা হয়। এসব তথ্য জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, অবরোধ-হরতলে দেড় মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ। কৃষকের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকার সবজি কেনা যায়নি, ব্যবসা বন্ধ থাকায় লাভের তো প্রশ্নই নেই।
উল্টো গুদামভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, কর্মচারীদের বেতন, ব্যাংকঋণের সুদসহ ব্যবসায়ীদের অর্ধকোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে বলে জানান শফিকুল। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা পুঁজি ভেঙ্গে খাচ্ছেন। কেউ কেউ ব্যাংক ঋণের চাপে দিশেহারা। অন্যদিকে আড়তে কাজ করা কয়েক হাজার শ্রমিক, ট্রাকে মালামাল ওঠানোর কাজে জড়িত হাজার খানেক কুলি, ৫০০ জন পরিবহন শ্রমিকের বেশির ভাগই এখন বেকার। তারা প্রতিদিন গড়ে ৩০০ টাকা রোজগার করতেন। তাদের রোজগার এখন বন্ধ। কারোরই সংসার চলছে না।
সরকার তো বলছে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক?-এ প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলামের জবাব, পুলিশি পাহারায় এখন দিনে ২০-২৫টি ট্রাক ঢাকা-চট্রগ্রামের মোকামে যাচ্ছে। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কোনো লাভ হচ্ছে না। ট্রাক ভাড়া বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। বেশি টাকা দিয়েও ট্রাক পাওয়া যাচ্ছে না। পেট্রলবোমা হামলার ভয়ে কেউ ট্রাক ভাড়া দিতে চাচ্ছে না।
এক বছর আগের কথা স্মরণ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, একই রকম রাজনৈতিক অবস্থা ছিল ২০১৩ সালেও। ওই সময়ও সবজিবাহী ট্রাক পুড়িয়ে সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হয়।
ওই বছরের ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে গত তিনটি ভরা মৌসুমে এখানকার ব্যবসায়ীদের হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হলো। অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন। এবারও মুখ থুবড়ে পড়েছে সবজির ব্যবসা। দাম না পেয়ে হাহাকার পড়ে গেছে সবজিচাষিদের মধ্যে। ফলে সবজি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। তাঁর মতে, ‘এখন শুধু ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে নয়, কৃষক বাঁচাতেই আইন করে কৃষিজাত পণ্য পরিবহন অবরোধ-হরতালের আওতামুক্ত রাখা উচিত।’

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন