দেশের ডিজিটাল ম্যাপ সমৃদ্ধ করতে জিপির উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

গুগল ম্যাপস এবং ওপেন স্ট্রিট ম্যাপে বাংলাদেশের শহরাঞ্চল বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ম্যাপে দেশের গ্রামাঞ্চলের বেশির ভাগ স্থাপনা নির্দিষ্ট করা হয়নি। এতে গ্রামের মানুষ, স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি এবং ই-কমার্স ডেলিভারি এজেন্টরা ম্যাপ দেখে নির্দিষ্ট স্থান খুঁজে বের করতে সমস্যায় পড়ছেন। এ জন্য গুগল ম্যাপস এবং ওপেন স্ট্রিট ম্যাপ আরও সমৃদ্ধ করা উদ্যোগ দিয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন।

এ জন্য অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও গ্রামীণফোন যৌথভাবে আজ বুধবার শুরু করছে ‘বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ’ ক্যাম্পেইন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্যোগের কথা জানান আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ।

চ্যালেঞ্জে অংশ নিতে আগ্রহী যেকোনো স্বেচ্ছাসেবক bangladeshchallenge.com এবং corona.gov.bd-এ নিবন্ধন করতে পারেন। এই ক্যাম্পেইন ৩০ এপ্রিল ২০২০ পর্যন্ত চলবে।

গ্রামীণফোন জানিয়েছে, বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ ক্যাম্পেইন এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেন প্রত্যেকেই তাঁদের বাড়ি থেকে একটি তথ্যভান্ডার বা ইনফরমেশন ডেটাবেইস তৈরিতে অংশ নিতে পারেন। পুরো ক্যাম্পেইনের সময়ে ম্যাপিং এক্সপার্টরা স্বেচ্ছাসেবীদের এ ব্যাপারে সব রকমের সহযোগিতা করবেন।

গ্রামীণফোনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে যে ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে। যেহেতু সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে, তাতে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাকেন্দ্র, ফার্মেসি, সুপারমার্কেট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, মোবাইল ফোন রিচার্জ ও ক্যাশ আউট পয়েন্টগুলোর অবস্থান এবং তাদের সেবাদানের সময়সূচি জানা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনাকারী এবং কর্মীদের জন্য পরবর্তী আইসোলেশন সেন্টার এবং আইসিইউগুলো স্থাপনের পরিকল্পনা করার সুবিধার্থে এসব তথ্য জানা থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া জরুরি খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহের কাজে নিয়োজিত এজেন্টদের সব রাস্তা ভালো করে জানা দরকার।

জুনাইদ আহ্‌মেদ উদ্বোধনের সময় বলেন, ক্রাউডসোর্সিংয়ের মাধ্যমে গুগল ম্যাপস ও বাংলাদেশের ওপেন স্ট্রিট ম্যাপ আরও সমৃদ্ধ হবে, যা জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের জনগণকে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ফার্মেসি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কমিউনিটিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনির চৌধুরী বলেন, ‘গুগল ম্যাপ এবং ওপেন স্ট্রিট ম্যাপকে আরও সমৃদ্ধ করতে আমি দেশের উদ্যমী তরুণদের আহ্বান জানাচ্ছি। তরুণেরা তাঁদের বাড়িতে বসে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখেই এই ম্যাপিং কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।’

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সমগ্র পৃথিবী আজ একত্র হয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই, বিশেষ করে তরুণেরা বাড়িতে বসেই যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে অংশ নিতে পারি। আমরা বিশ্বাস করি, যাঁরা অসহায় পরিস্থিতিতে আছেন, তাঁদের কাছে দরকারি তথ্য পৌঁছে দিতে এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

প্রেস কনফারেন্সে প্রেনিউর ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ নিজামি, গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশার এবং গুগল ডেভেলপার গ্রুপ, লোকাল গাইডস বাংলা, বাংলাদেশ স্কাউটস, ইয়ুথ হাবসহ বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন