অসহায়ত্বের সুরে হেলাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে ক্ষতি হয়েছে, তা বলে বোঝানোর নয়। কখনো কল্পনা করিনি এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে। একেবারে নজিরবিহীন বন্যা। শহরের প্রাণকেন্দ্র বলতে যেটা বোঝায়, সেখানেই আমার দোকান। জায়গাটা বন্যার পানিতে ডোবার মতো নয়। ড্রেনেজ সমস্যার কারণে কখনো কখনো সামান্য জলাবদ্ধতার শিকার হলেও বন্যার পানিতে এই জায়গা ডুবতে পারে, এটা কল্পনা করা যায় না।’

সেদিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে হেলাল আহমেদ আরও বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি। পানি শহরে চলে আসে তার আগেই। সকাল ১০টা–১১টার দিকে এক দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে আড়াই থেকে তিন ফুট পানি চলে আসে। ততক্ষণে দোকানে ও গুদামে পানি ঢুকে ২৫-৩০ লাখ টাকার বই নষ্ট হয়ে যায়। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে এসে লোকজন ডাকাডাকি করায় বাকিটা রক্ষার চেষ্টা করেছি, কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার, তা হয়ে গেছে।’

নিজের কাছে বিষয়টা এখনো বিস্ময়কর মনে হচ্ছে উল্লেখ করে বিসমিল্লাহ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী বলেন, ‘আমার নিচতলার দুই দোকান ও গুদাম এবং দোতলা ও তিনতলার দোকান মিলে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টাকার বই ছিল। আর আমরা যখন গুদাম করে পণ্য রাখি, তখন একেবারে ছাদ পর্যন্ত পণ্য সাজিয়ে রাখি। এগুলো বের করাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। সেদিন কম সময়ের মধ্যে বই টেনে বের করতে গিয়ে বই পানিতে পড়ে যায়। এতে করেও একসঙ্গে বেশ কিছু বই নষ্ট হয়েছে।’

default-image

এখন ঘুরে দাঁড়াবেন কীভাবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে হেলাল আহমেদ বলেন, ‘আমার কাছে কোম্পানিগুলো দুই কোটি টাকার মতো পাবে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ঋণ আছে আরও ৫০ লাখ। এসব দেনা শেষ করে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা কষ্টকর হবে। তবে কিছু করার নেই, আমার তবু সব সম্পদ নষ্ট হয়নি। অনেকের তো একেবারে কিছু নেই, পুরো নিঃস্ব হয়ে গেছে। এ জন্য আমার বেশি চিন্তা হচ্ছে। কারণ, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কাছে আমার প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনা আছে।’

রাজা ম্যানশনের পপি লাইব্রেরিসহ এখানকার নিচতলায় অবস্থিত সব কটি দোকানই এই বন্যায় কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও বই ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বই দ্রুত পানি শোষণ করার কারণে স্থানান্তরের সুযোগও পাননি অনেকে।

সিলেট শহরের পুরান লেন এলাকার নিউ ন্যাশন লাইব্রেরির মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে এত বৃষ্টি হয়েছে যে বাসা থেকে বের হতেই পারিনি। ১২টার দিকে দোকানে পৌঁছে দেখি, নিচের অংশে এক থেকে দেড় ফুট পানি উঠে গেছে। তাতে সাজানো ও গুদাম করা বইসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মালামাল। এ রকম ক্ষতি নিচতলার সব দোকানে হয়েছে। নতুন করে শুরু করতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারি কেনাকাটার অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই।’

সিলেট ও সুনামগঞ্জের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এখনো মানুষ ঘরে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে যেসব স্থানে পানি নেমেছে, সেখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। এর মধ্যে সিলেট শহরের কিছু এলাকা উঁচু হওয়ায় সেখানকার ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক ভালো অবস্থানে আছেন। প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের সম্পদ বলতে অবশিষ্ট কী আছে, তা বন্যার পানি নেমে গেলেই কেবল বলা যাবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন