একনেকে ২৩৬৫ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদিত

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইডথ চাহিদা মিটিয়ে কেব্ল-সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখা যাবে বলে আশা করছে সরকার।
এ জন্য ‘আঞ্চলিক সাবমেরিন টেলিযোগাযোগ প্রকল্প’ নামে ৬৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় জোগান দেওয়া হবে ১৬৬ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য বাবদ পাওয়া যাবে ৩৫২ কোটি টাকা। আর বাস্তবায়নকারী সংস্থা দেবে আরও ১৪২ কোটি টাকা।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গতকাল মঙ্গলবার এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ঢাকায় পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি মহাসড়ক দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্য এশিয়া-পশ্চিম এশিয়া-৪ নামক কনসোর্টিয়ামের আওতায় একটি সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ। সংক্ষেপে এই মহাসড়কের নাম এসএমডব্লিউ-৪। কোনো কারণে এই কেব্লটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে এর বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া-মধ্য এশিয়া-পশ্চিম এশিয়া-৫ (এসএমডব্লিউ-৫) কেবলের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংযোগ যাতে নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে জন্যই নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটায় এই সাবমেরিন কেব্ল-সংযোগের ‘গ্রাউন্ড লোকেশন’ ঠিক করা হয়েছে। নতুন সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে যুক্ত হলে আরও ১ হাজার ৩০০ জিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়া যাবে। আর এসএমডব্লিউ-৪-এর চেয়ে ১০ গুণ বেশি শক্তিশালী এসএমডব্লিউ-৫।
একনেকের সভা শেষে প্রকল্পটি সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, এসএমডব্লিউ-৪ কেব্লটি ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ। এর সঙ্গে এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ১৪টি দেশের ১৬টি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি যুক্ত আছে। এই কেব্লটি কোনো কারণে কাটা পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামত করতে ৭ থেকে ১০ দিন লেগে যায়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। এ থেকে উত্তরণ পেতে ‘ব্যাকআপ’ হিসেবে নতুন কেব্ল এসএমডব্লিউ-৫-এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এই প্রকল্পটিসহ গতকালের একনেক সভায় ২ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, প্রকল্প সাহায্য ৬৮১ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১৫৩ কোটি টাকা।
সভায় অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রকল্প হলো, ২৯ কোটি টাকার মিরসরাইয়ে বিসিক শিল্পনগর প্রকল্প (সংশোধিত); ৬৬০ কোটি টাকার অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প; ৪১৪ কোটি টাকার পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রকল্প; ৬৩ কোটি টাকার দিনাজপুর-বিরল-পাকুয়া, রাধিকাপুর (বিরল স্থলবন্দর) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প; ৩৫ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও পল্লি উন্নয়ন অনুষদের ভৌত ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি সৃষ্টি প্রকল্প; ৩২৭ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স কোটালীপাড়া, গোপালগঞ্জের সম্প্রসারণ, সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প (সংশোধিত); ৩২৫ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর প্রকল্প (সংশোধিত); ২৭ কোটি টাকার জাতীয় ভূমি জোনিং প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) এবং ২৩২ কোটি টাকার বিএডিসির বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণব্যবস্থাদির আধুনিকীকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প (সংশোধিত)।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন