বিশ্বজুড়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) বিরুদ্ধে। বিবিসির এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ২০৩টি দেশের ১ লাখ ৬ হাজার গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশ্লেষণে প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা সাত হাজার। সাংবাদিক রিচার্ড বিল্টনের এই প্রতিবেদন গতকাল সোমবার প্রকাশ করে বিবিসি।
অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে এইচএসবিসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলেছে, গ্রাহকের হিসাবের গোপনীয়তার সুযোগে কিছু ব্যক্তি অবৈধ লেনদেন করেছেন। সে জন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে হিসাব চালানোর মূল কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। অবৈধ লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে।
তবে অপরাধ স্বীকার ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েই পার পাচ্ছে না এইচএসবিসি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও আর্জেন্টিনায় ইতিমধ্যেই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে এখনো এ ধরনের অপরাধের তদন্ত শুরু হয়নি।
এদিকে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, এইচএসবিসির সহযোগিতায় কর ফাঁকি দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় থাকা ভারতীয়দের ব্যাংক হিসাব তদন্ত করা হবে।
ফ্রান্সের পত্রিকা লা মন্ড-এর সঙ্গে যৌথভাবে করা বিবিসির এ তদন্তের ফলাফল অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়াম ও দ্য গার্ডিয়ানসহ বিশ্বের ৫০টি প্রভাবশালী গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
এইচএসবিসির মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সাবেক কর পরিদর্শক রিচার্ড ব্রুকস বিবিসিকে বলেন, ‘আমি মনে করি যে এইচএসবিসি ব্যাংক কর ফাঁকি ও প্রতারণামূলক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তারা জেনেশুনে মানুষকে কর ফাঁকি দিতে সহযোগিতা করে। এর দায় তারা এখন কোনোভাবে এড়াতে পারে না।’
এইচএসবিসি ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কর ফাঁকি ঠেকাতে অসংখ্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সুইস ব্যাংকগুলোতে যেসব হিসাবে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ রাখা হয়, তার সংখ্যা ২০০৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকের পার্সোনাল ব্যাংকিং ব্যবসাও বন্ধ রাখা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এইচএসবিসির কাছে ব্যবসায়ে লাভের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন