default-image

সময়মতো আইন পাস না হওয়ার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদটি কয়েক দিনের জন্য খালি থাকছে। বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ ৩ জুলাই শুক্রবার। ফলে গভর্নর হিসেবে তাঁর টানা আরও দুই বছর দায়িত্ব পালনের সব আয়োজন থাকলেও এতে সামান্য ছেদ পড়ল।

তবে এই ফাঁকে একটি উপায় বের করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও দুই ডেপুটি গভর্নরকে (ডিজি) চিঠি দিয়েছে। বলেছে, নতুন গভর্নর নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত ডিজি এস এম মনিরুজ্জামান গভর্নরের কাজগুলো করে যাবেন। অপর ডিজি আহমেদ জামালও তাঁর নিজ দায়িত্ব পালন করবেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এস এম মনিরুজ্জামান গভর্নরের ডাক দেখবেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগে সেগুলো পাঠিয়ে দেবেন। নিয়মিত গভর্নর হিসেবে ফজলে কবির যেসব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেগুলোও নিতে পারবেন এস এম মনিরুজ্জামান। তবে নতুন গভর্নর নিয়োগ পাওয়ার পর সেগুলোর অনুমোদন নিতে হবে।

জানতে চাইলে ডিজি এস এম মনিরুজ্জামান গত রাতে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিঠি তিনি পেয়েছেন।

বিদ্যমান বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের মেয়াদ বৃদ্ধির আর সুযোগ নেই। কারণ, আজ তাঁর বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী ৬৫ বছর বয়স হয়ে গেলে কেউ গভর্নর থাকতে পারেন না।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যতিক্রম কিছু না ঘটলে ফজলে কবিরকেই আরেক দফায় গভর্নর পদে রাখতে চাইছে সরকার। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধন করার উদ্যোগ নেওয়া হয় গত মে মাসে।

গভর্নরের বয়স ৬৫ বছর থেকে বাড়িয়ে অনির্দিষ্টকাল করার ব্যাপারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গত মে মাসের প্রস্তাবে সায় দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও। গত ৮ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওই প্রস্তাব পরিবর্তিত হয়ে ৬৭ বছরের জন্য অনুমোদন পায়।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ঘুরে গত রোববার আইন সংশোধনের ফাইল যখন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আসে, বিভাগটি একই দিন তা পাঠিয়ে দেয় জাতীয় সংসদে। অর্থমন্ত্রী নোটিশও দিয়েছিলেন যে আইন সংশোধনের বিলটি তিনি সংসদের বাজেট অধিবেশনেই তুলবেন।

কিন্তু এরই মধ্যে গত সোমবার অর্থ বিল পাস হয়েছে, মঙ্গলবার পাস হয়েছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের বিলটি সংসদে উপস্থাপিত হয়নি। সংসদ মুলতবি হয়ে গেছে ৮ জুলাই পর্যন্ত।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরবিহীন থাকার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, লুৎফর রহমান সরকার দুই বছরের জন্য ১৯৯৮ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত গভর্নর ছিলেন। এরপর একই বছরের ২৪ নভেম্বর গভর্নর হন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। মাঝখানের তিন দিন কোনো গভর্নর ছিল না। তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০০১ সালের ২২ নভেম্বর বিদায় নেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। এর চার দিন পর ফখরুদ্দীন আহমেদ গভর্নর পদে যোগ দেন একই বছরের ২৯ নভেম্বর। এমনকি আতিউর রহমান চলে যাওয়ার পরও ২০১৬ সালের ১৬ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্তও বাংলাদেশ ব্যাংক ছিল গভর্নরবিহীন।

সাধারণভাবে ফজলে কবিরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল এ বছরের ১৯ মার্চ। কিন্তু গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে তাঁর মেয়াদ ৬৫ বছর বয়স অর্থাৎ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার। আইন অনুযায়ী, সরকার চার বছরের জন্য কাউকে গভর্নর নিয়োগ দিলেও এ মেয়াদ আরেক দফা বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0