নতুন সম্ভাবনা পরিবহন খাতে

বিজ্ঞাপন
>

default-image

দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহকারী শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান যমুনা স্পেসটেক জয়েন্টভেঞ্চার লিমিটেড। এলপিজি আমদানি করে বোতলজাতকরণ বা সিলিন্ডারে ভরে সরবরাহ করার পাশাপাশি সিলিন্ডার উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। এলপিজির ব্যবহার, বাজারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন যমুনা গ্যাসের পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত

প্রথম আলো: বাংলাদেশে এলপিজির বাজার কতটুকু? কতগুলো কোম্পানি এখন ব্যবসা করছে?

ইয়াসিন আরাফাত: আমদানির তথ্য দেখে বলতে হবে। তবে মোটামুটিভাবে বলা হয়, দেশে বছরে ৬ লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানি হয়। ২০১৫ সালের পর থেকে বাজার বেশ দ্রুত হারে বেড়েছে। গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি শিল্পেও এখন এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে। গাড়িতেও এলপিজির ব্যবহার শুরু হয়েছে। যা ভবিষ্যতে বাড়বে। সব মিলিয়ে বাজার এখন বছরে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। এ খাতে ১৪ থেকে ১৫টি কোম্পানি বিনিয়োগ করেছে। আরও অনেক বিনিয়োগ আসছে।

প্রথম আলো: আপনারা কবে ব্যবসা শুরু করলেন? এখন ব্যবসার পরিস্থিতি কী?

ইয়াসিন আরাফাত: আমরা ১৯৯৮ সালে বেসরকারি খাতে এলপিজি সরবরাহের লাইসেন্স পাই। তবে আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে। আমরা যাত্রা শুরু করি ২০০০ সালে। এর আগে বসুন্ধরা ব্যবসা শুরু করে। এখন আমরা শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির একটি। আমাদের মোংলায় ৬ হাজার টন এলপিজি ধারণক্ষমতার রিজার্ভার আছে। আমরা সরাসরি নিজেরাই এলপিজি আমদানি করি।

প্রথম আলো: আমরা দেখছি, গ্রামেও এখন বিপুল মানুষ এলপিজি ব্যবহার করে। বাজার বড় হচ্ছে কোথায়, গ্রামে না শহরে?

ইয়াসিন আরাফাত: আসলে পরিমাণে বড় হচ্ছে শহরে। সরকার এখন আর পাইপলাইনে বাসাবাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করছে না। শহরে প্রচুর নতুন ভবন হচ্ছে। সেখানে চাহিদা বাড়ছে। এখন অনেক বড় ভবনে কেন্দ্রীয়ভাবে পাইপলাইন করা হয়। প্রতিটি ফ্ল্যাটে মিটার থাকে। সেখানে একটি বড় সিলিন্ডার লাগিয়ে সবাই ব্যবহার করে। এটি খুব জনপ্রিয় হচ্ছে।  

প্রথম আলো: গৃহস্থালিতে ব্যবহারে প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এলপিজির খরচ কি অনেক বেশি পড়ে?

ইয়াসিন আরাফাত: একটু বেশি হয়। তবে সেটা সহনীয়। একটি ছোট পরিবারে গড়ে ১ সিলিন্ডার বা ১২ কেজি গ্যাসে মাস চলে যায়। শহরে সেটা ১ হাজার ৫০ টাকার মতো পড়ে। পাইপলাইনে গ্যাস যেখানে আছে সেখানে দুই চুলার জন্য বিল ৮০০ টাকা। ফলে দেখা যায়, খুব বেশি ব্যয় হয় না। আর সরকার তো নতুন করে গ্যাস সরবরাহ করবে না। প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো মূল্যবান সম্পদ কোনো দেশেই রান্নায় ব্যবহার করা হয় না।

প্রথম আলো: শিল্পে কোন ক্ষেত্রে এলপিজি ব্যবহৃত হয়?

ইয়াসিন আরাফাত: সুগন্ধি বা বডি স্প্রে, অ্যারোসল ইত্যাদি স্প্রে জাতীয় শিল্পের কাঁচামাল এলপিজি। এ ছাড়া অনেক জায়গায় শিল্প খাতে গ্যাস–সংযোগ পায়নি। সেখানেও এলপিজি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া পরিবহনেও এখন এলপিজি ব্যবহৃত হয়।

প্রথম আলো: পরিবহনে কীভাবে ব্যবহৃত হয়? দেশে কি এলপিজি ফিলিং স্টেশন গড়ে উঠেছে?

ইয়াসিন আরাফাত: এ বছরের মধ্যে দেশে অনেকগুলো এলপিজি ফিলিং স্টেশন গড়ে উঠবে। এখন অনেকগুলো আছে। আমরা নিজেরাও ৫০টির মতো ফিলিং স্টেশন করছি। সব মিলিয়ে পরিবহন খাতে এলপিজির ব্যবহার বাড়বে।

প্রথম আলো: গাড়িতে এলপিজি ব্যবহারের কি কোনো লাভ আছে?

ইয়াসিন আরাফাত: প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বেশি লাগে। ইঞ্জিন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এলপিজিতে রক্ষণাবেক্ষণ কম লাগে। পাশাপাশি এর কার্যদক্ষতা অকটেনের কাছাকাছি। কিন্তু দাম অনেক কম। প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে দাম একটু বেশি হলেও গাড়ি ভালো রাখতে মানুষ এলপিজি ব্যবহার করবে।

প্রথম আলো: বাংলাদেশে এলপিজি আসে কোথা থেকে?

ইয়াসিন আরাফাত: উৎস মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তবে বিশ্বব্যাপী যেসব কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করে, তাদের সিঙ্গাপুরকেন্দ্রিক কার্যালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে এলপিজি আসে। বাংলাদেশে ১০টির বেশি কোম্পানি সরাসরি নিজেরা আমদানি করে।

প্রথম আলো: আপনাদের সিলিন্ডার কারখানাও আছে?

ইয়াসিন আরাফাত: আমাদের সিলিন্ডার কারখানাটি বগুড়ায়। জাপান থেকে স্টিল শিট এনে আমরা সিলিন্ডার তৈরি করি। মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিই না। কারণ, সিলিন্ডারের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সিলিন্ডারে আমরা উন্নত মানের নিরাপত্তা ভালভ ব্যবহার করি।

প্রথম আলো: গ্যাস অথবা সিলিন্ডারে প্রচুর বিনিয়োগ হয়েছে। সবাই কি ভালো করছে?

ইয়াসিন আরাফাত: আসলে বাজারে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। চাহিদার চেয়ে গ্যাসের সরবরাহ সক্ষমতা অনেক বেশি। সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। এ কারণে একেকটি সিলিন্ডারে ৪০০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে বিক্রি করতে হয়। আমরা সেটা করি বাজার ধরে রাখতে। ভবিষ্যতে রপ্তানিতে যেতে হবে। নইলে টিকে থাকা কঠিন হবে।

প্রথম আলো: প্রায়ই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা শুনি।

ইয়াসিন আরাফাত: রান্নাঘরে যে চাপে সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়, তার চার গুণ চাপে কারখানায় গ্যাস ভরা হয়। আমরা যে ভালভ ব্যবহার করি, সেটা বেশি চাপ হলে নিজেই গ্যাস ছেড়ে দেয়। নিরাপত্তার জন্য সতর্কতা জরুরি। এ ক্ষেত্রে শিগগিরই আমাদের সমিতির মাধ্যমে প্রচারাভিযান শুরু কবর।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন