বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জনবিক্ষোভের কারণে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। সেই সঙ্গে মাহিন্দা রাজাপক্ষের পদত্যাগ এবং বিকল্প প্রধানমন্ত্রী না আসায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে বলে মনে করছেন গভর্নর।

বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে পারছে না তারা। সেই সঙ্গে আছে পাহাড়সম বিদেশি ঋণ পরিশোধের ঝামেলা। এ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি বলে মনে করছেন নন্দলাল ভিরাসিংহে।

কিছুদিন আগেই দায়িত্ব নিয়েছেন নন্দলাল ভিরাসিংহে। বলা বাহুল্য, খুবই কঠিন সময়ে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেছেন তিনি। বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি দ্রুত পড়ে যাচ্ছিল। তবে ভেবেছিলাম, এই পতন ঠেকানো গেছে। কিন্তু সোমবারের ঘটনায় মনে হচ্ছে, না কোনো ধরনের গতিরোধক দিয়েই পরিস্থিতির উন্নতি করা যাবে না।

গভর্নর আরও বলেন, ‘আর এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি পুরোপুরি ধসে যাবে। তখন আর কারও পক্ষে শ্রীলঙ্কাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তখন আমার পদে থাকা বা না থাকার অর্থ থাকবে না; আর যদি দেখি, সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ নেই, তাহলে আমি পদত্যাগ করব’।

বিশ্লেষকেরা বলেন, ঋণখেলাপি শ্রীলঙ্কার সর্বনাশের মূল কারণ হলো, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় বন্ড বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নির্বিচার বিক্রি করা। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কা সরকার আগপিছ বিবেচনা না করে ডলারে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেছে। এই ডলারভিত্তিক সঞ্চয়পত্র দেশটির সর্বমোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় অর্ধেক। রাষ্ট্রীয় রিজার্ভে ডলারের পরিমাণ তলানিতে ঠেকার কারণে এই সঞ্চয়পত্রের কিস্তিভিত্তিক মুনাফার অর্থ দিতে শ্রীলঙ্কা সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আবার যেসব বড় বড় প্রকল্পের জন্য এই অর্থ তারা নিয়েছিল, সেগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি।

সেই সঙ্গে মহামারির কারণে গহত দুই বছরে শ্রীলঙ্কার প্রধান আয়ের খাত পর্যটন থেকে তেমন কোনো আয় হয়নি। কমেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সে কারণেও তাদের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া কমে গেছে।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন