প্রস্তাবিত ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে নয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আগে হবে। এমনটাই আশা করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। তাই নয়টির জন্যই আগামী ১০ বছরের গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা ঠিক করেছে সংস্থাটি।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো হচ্ছে শ্রীহট্ট, শ্রীপুর, আনোয়ারা (২), মংলা এবং বেসরকারি আবদুল মোনেম, এ কে খান, মিরসরাই, মেঘনা ও বিজিএমইএ শিল্পপার্ক। এগুলোর মোট আয়তন ১০ হাজার ৬৯২ একর।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয়ের এক সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জন্য ১০ বছরের গ্যাস-বিদ্যুতের এ চাহিদা নির্ধারণ করা হয়।
বেজা বলেছে, নয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৮ এমএমসিএফটি (১ এমএমসিএফটি সমান ১০ লাখ ঘনফুট) ও ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগবে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাসের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৫১২ এমএমসিএফটি (৫১ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস)। ওই সময়ে বিদ্যুতের দরকার পড়বে ১ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট।
চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৩০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করার কথা জানিয়েছেন। দেশের কোন কোন অঞ্চলে এগুলো করা হবে, তারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৫ বছরে দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল করা হবে ১০০টি। আর এ থেকে বছরে আয় হবে চার হাজার কোটি ডলার এবং কর্মসংস্থান হবে এক কোটি মানুষের।
শুধু নয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা প্রাক্কলন করা হলো কেন, জানতে চাইলে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী গত রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘নয়টির কাজ এগিয়ে রয়েছে। তাই এ দফায় গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদা ঠিক করা হয়েছে। বাকিগুলোর চাহিদা পরে ঠিক করা হবে।’ তবে নয়টির বাইরে অন্য অঞ্চলও এগিয়ে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
বেজা সূত্রমতে, শ্রীপুর ও আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আগামী অর্থবছরে কোনো গ্যাস লাগবে না। তবে বিদ্যুৎ লাগবে ৫ মেগাওয়াট করে। মিরসরাইয়ের জন্যও আগামীবার গ্যাস-বিদ্যুৎ কিছুই লাগবে না। মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য গ্যাস লাগবে না ২০১৮-১৯ পর্যন্ত।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে মিরসরাই। এর আয়তন ৭ হাজার ৫০০ একর। সে হিসেবে অঞ্চলটির গ্যাস-বিদ্যুতের চাহিদাও সবার থেকে বেশি হবে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এর জন্য ১ এমএমসিএফটি গ্যাস ও ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্যাস ৩৪০ এমএমসিএফটি এবং বিদ্যুতের দরকার পড়বে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট।
নয়টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৪-২৫ পর্যন্ত প্রতি অর্থবছরের জন্যই আলাদা করে গ্যাসের চাহিদা ঠিক করেছে বেজা। পরিমাণ হচ্ছে ২৮, ৫২, ৭৭, ১৩৫, ৩২১, ৩৯৭, ৪৭৬, ৪৮৬, ৪৯৮ ও ৫১২ এমএমসিএফটি। একই সময়ে বিদ্যুৎ লাগবে ৭৫, ৩০২, ৫৩৫, ৫৫৫, ৬০৫, ৭১০, ৯৫০, ১ হাজার ১৭০, ১ হাজার ৭০৫ ও ১ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট।
বেসরকারি এ কে খান অর্থনৈতিক অঞ্চলের পরিচালক শাহাদত হোসেন গতকাল বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহের নিশ্চয়তা তো বটেই, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জন্য দামের দিকটিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় রাখতে হবে। নইলে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে কুলানো যাবে না।’
জাতীয় সংসদে গত রোববার বাংলাদেশের গ্যাসের মোট মজুত ও ব্যবহারের তথ্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানান, বাংলাদেশে আবিষ্কৃত ২৬টি গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ২০টিতে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে। তিনি জানান, দেশে মোট গ্যাস মজুত রয়েছে ২৭ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। তার মধ্যে গত মার্চ পর্যন্ত ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বিভিন্ন খাতে ব্যবহৃত হয়েছে। বাকি মজুতের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাস নিয়ে এবারের বাজেট বক্তব্যে অবশ্য অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক গ্যাস খুবই মূল্যবান সম্পদ এবং বর্তমানে এর মজুত খুবই কম। প্রাক্কলিত প্রাথমিক মজুত ৩৮ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ও উত্তোলনযোগ্য মজুত ১৪ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাস-বিদ্যুতের সংস্থান কীভাবে হবে জানতে চাইলে পবন চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। তাই একে কোনো সমস্যাই মনে করছেন না তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন