default-image

নরসিংদীর চৌয়ালা শিল্প এলাকার মমিন টেক্সটাইল। কারখানাটি প্রতি মাসে ২০ লাখ গজ কাপড় উৎপাদন করে। স্বাভাবিক সময়ে মাসে তাদের উৎপাদিত কাপড়ের ১০ লাখ গজ স্থানীয়ভাবে ও বাকি ১০ লাখ গজ বিভিন্ন পোশাকশিল্পের কাছে বিক্রি হতো। কিন্তু হরতাল-অবরোধের কারণে গত দেড় মাসে বিক্রি হয়েছে মাত্র তিন লাখ গজ। আর অবিক্রীত থেকে গেছে ২৭ লাখ গজ। অথচ এই সময়ে উৎপাদন হয়েছে ৩০ লাখ গজ কাপড়। বিক্রি তলানিতে নেমে যাওয়ায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানাটির পরিচালক মুমিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এভাবে আর কত দিন চলবে? উৎপাদিত কাপড়ে গোডাউন ভরে গেছে। বিক্রি করতে পারছি না। কারখানা চালু রাখলে তো কাপড় উৎপাদন করতে হবে। দিতে হবে শ্রমিকের মজুরি। তাই পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সপ্তাহ থেকে উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে দেব।’
সরেজমিনে সম্প্রতি চৌয়ালা শিল্প এলাকার শিল্পী টেক্সটাইলের সামনে গিয়েও দেখা যায়, প্রধান ফটকে বড় দুটো তালা ঝুলছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাপড় বিক্রি না হওয়ায় ও শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে না পারায় এক সপ্তাহ আগে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অনন্যা টেক্সটাইল, শফিক টেক্সটাইল, আল-মদিনা টেক্সটাইল, শাহেন শাহ টেক্সটাইল, আল আরাফাহ্ টেক্সটাইল, আতাউর টেক্সটাইল প্রভৃতি কারখানাও বন্ধ দেখা গেছে।
জেলা টেক্সটাইল শিল্পমালিক সমিতির সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী সদর, রায়পুরা ও শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় চার শতাধিক পাওয়ারলুম বা যন্ত্রচালিত তাঁতশিল্প রয়েছে। এসব কারখানায় লক্ষাধিক তাঁত আছে। এর মধ্যে দুই শতাধিক ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে কাপড় বিক্রি না হওয়ায়।
সূত্রটি আরও জানায়, এ জেলায় দৈনিক ৬০-৬৫ লাখ গজ কাপড় উৎপাদিত হয়। প্রতি গজ কাপড় তৈরিতে সুতা ও বিদ্যুৎ বিল এবং শ্রমিকের মজুরিসহ খরচ হয় প্রায় ২৪ টাকা। কিন্তু হরতাল-অবরোধের প্রভাবে কাপড়ের চাহিদা কম থাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে ২২ টাকায়। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁতমালিকদের।
মোখলেস টেক্সটাইল নামে একটি কারখানায় গিয়ে দেখা যায় এটির মালিক মোখলেস মিয়া কয়েকজন শ্রমিককে দিয়ে অফিস পরিষ্কার করাচ্ছেন। সেখানে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘হরতাল আর অবরোধের জন্য কিছু করতে পারছি না। তাই এক সপ্তাহ আগে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি।’
জানতে চাইলে জেলা টেক্সটাইল শিল্পমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ মিয়া বলেন, ‘অসুস্থ রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি রুগ্ণ হয়ে পড়েছে। ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছি আমরা মালিক-শ্রমিকেরা। কারণ, হরতাল-অবরোধের দরুন কাপড় বিক্রি হচ্ছে না। এতে বেকায়দায় আছে নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির তাঁতমালিকেরা। ইতিমধ্যে জেলার অর্ধেকের বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এভাবে আরও কয়েক দিন চললে আমার মনে হয়, তাঁতশিল্প নামক শব্দটি অতীত হতে সময় লাগবে না।’

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন