default-image

সোমবার। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট। কুয়াশা তখনো কাটেনি। রাজনৈতিক দলের হরতাল কর্মসূচির কারণে রাজপথ অনেকটাই ফাঁকা। কর্মচাঞ্চল্য নেই। তবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে যেতেই দেখা গেল উল্টো চিত্র। কানে এল ঠুকঠাক শব্দ আর হাঁকডাক।
ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ল বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্যাভিলিয়ন ও স্টলের শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। দুই-তিনটি প্যাভিলিয়নে উঠে গেছে পণ্য। অস্থায়ী সড়কে ইট বিছানো ও বালু ফেলায় শ্রমিকেরা এতটাই ব্যস্ত যে দম ফেলার ফুরসত নেই। ২০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন হবে নতুন বছরের প্রথম দিন আগামী বৃহস্পতিবার। তাই হাতে সময় মাত্র দুই দিন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ আয়োজনে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলায় এবার থাকছে ৫০০ বিভিন্ন আকারের প্যাভিলিয়ন ও স্টল। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৯০। এ বছর সাধারণ, প্রিমিয়ার ও বিদেশি প্যাভিলিয়ন ৮৬টি , মিনি-প্যাভিলিয়ন ৫১টি , স্টল ৩১১টি এবং রেস্তোরাঁ ৪১টি। এবারও বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নামে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়নের পাশাপাশি সুন্দরবন ইকোপার্কসহ সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে। মেলায় প্রবেশের ফটকটি করা হয়েছে কার্জন হলের আদলে।
এবারের মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষ। প্রথমবারের মতো নারী উদ্যোক্তাদের ২৯টি স্টল থাকছে পাশাপাশি। এ ক্ষেত্রে যাঁরাই আবেদন করেছেন, সবাই সুযোগ পেয়েছেন বলে জানালেন মেলার সদস্যসচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিম। ইপিবি জানায়, বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের প্রতিষ্ঠান এ বছর মেলায় অংশ নিচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে: ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরষ্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কোরিয়া, জার্মানি ও পাকিস্তান। এসব দেশের স্টল ও প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৪৩। এদিকে এবার মেলায় প্রবেশমূল্য আগের বছরের মতোই রাখা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ ও শিশুদের জন্য ১০ টাকা প্রবেশমূল্য।
মেলার নিরাপত্তার জন্য ৮০টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবেশপথে আর্চওয়ে বসানো হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়াও বাইরে থাকছে বিশেষ জায়গা। এ ছাড়া মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো আইন মানছে কি না, তা দেখতে ইপিবির একটি পরিদর্শন দল মেলা প্রাঙ্গণে অভিযান চালাবে।
গতকাল পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি স্টল ফাঁকা পড়ে আছে। বুকিং হয়নি। আবার কয়েকটি স্টলের কাজ গতকালই শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার মেঝেতে টাইলস লাগাচ্ছেন। অন্যদিকে, বেশির ভাগ প্যাভিলিয়নের কাজই বেশ এগিয়ে গেছে। নির্মাণকাজ চলার মধ্যেই ওয়ালটন ও সিঙ্গারের প্যাভিলিয়নের পণ্য আনাও শুরু হয়ে গেছে। অল্প কিছু অস্থায়ী সড়ক, একটি ফোয়ারা, প্রধান ফটকের কিছু কাজ ছাড়া মেলার অবকাঠামো মোটামুটি তৈরি হয়ে গেছে।
মেলায় একটি স্টলে ফ্রেম তৈরির কাজ করছিলেন শ্রমিক আবদুল মতিন। কাজ এখনো শেষ হয়নি কেন—জানতে চাইলে তিনি জানালেন, কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় শেষ হয়নি। মেলা শুরু হওয়ার পরও কিছু কাজ বাকি থেকে যাবে, যা তখন শেষ করা হবে।
মেলা কমিটির সদস্যসচিব রেজাউল করিম বলেন, ‘আশা করি, কাজ শেষ হবে। এত বড় আয়োজন, কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতেই পারে। তবে কোনো সমস্যা হবে না।’
বাণিজ্য মেলায় ২০১০ সালে ২২ কোটি ৮৬ লাখ, ২০১১ সালে ২৫ কোটি, ২০১২ সালে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি ও ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। এবার আরও বেশি হবে বলে প্রত্যাশা করেন মেলার সচিব।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন