বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বস্ত্রকলমালিকদের সংগঠন বিটিএমএর নেতারা এ অভিযোগ করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন। তাঁরা বলছেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহের কথা বলে এক দফা গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল। তবে বর্তমানে আমরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছি না। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’
রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিটিএমএর নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিএমএর সহসভাপতি ফজলুল হক, পরিচালক মোশারফ হোসেন, রাজীব হায়দার প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে গ্যাস–সংকটের কথা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে উত্থাপন করলে অনেকাংশেই সমাধান হয়েছে। এবার আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টির নেতিবাচক দিক উত্থাপন করেও গ্যাস সরবরাহজনিত সমস্যার সমাধানের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখছি না।’
গ্যাসের সংকটে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকার বস্ত্রকল বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে এলএনজি টার্মিনাল করা হয়েছে। সেখানে বড় বড় জাহাজ ভিড়তে পারে। তারপরও কারখানাগুলো গ্যাসসংকটে ভুগছে। সার কারখানায় গ্যাস দেওয়ার কারণে আমরা গ্যাস পাচ্ছি না।’ তিনি দ্রুত জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।

— বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বস্ত্রকলগুলোর পক্ষে শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও ব্যাংকঋণের কিস্তি নিয়মিতভাবে পরিশোধসহ গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হবে না।
মোহাম্মদ আলী, সভাপতি, বিটিএমএ।

বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ‘আমরা জানি, আন্তর্জাতিক বাজারে সময়ে সময়ে এলএনজির মূল্য ওঠানামা করে। তবে এলএনজি ক্রয়ের প্রক্রিয়া নিয়মিত করলে গড় মূল্য একটি পর্যায়ে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, বস্ত্রকলগুলো আধুনিক প্রযুক্তির কম্পিউটারাইজড যন্ত্রপাতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কিন্তু গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত ওই সব যন্ত্রপাতির ক্ষতি হচ্ছে। ডায়িং চলাকালে গ্যাস চলে গেলে মেশিনের ভেতর থাকা কাপড়ের ব্যাচটি নষ্ট হয়ে যায়।

মোহাম্মদ আলী বলেন, সব কারখানায় ইবিসি মিটার স্থাপন করা হয়নি। তাতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পেয়েও পুরো দাম দিতে হচ্ছে মালিকদের। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বস্ত্রকলগুলোর পক্ষে শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও ব্যাংকঋণের কিস্তি নিয়মিতভাবে পরিশোধসহ গ্যাস-বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হবে না।

বস্ত্রশিল্পে গ্যাসের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফলে বস্ত্র খাতের গড় উৎপাদন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২০২০–২১ অর্থবছরে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বস্ত্র খাতের অবদান ছিল ১ হাজার ৭৪৫ কোটি ডলার। প্রচুর ক্রয়াদেশ থাকায় চলতি বছর সেটি বেড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে গ্যাস–সংকট থাকলে এটি অর্জন করা সম্ভব নয়।

গ্যাস–সংকট নিয়ে গত মঙ্গলবার ভুক্তভোগী অন্তত ১০ জন উদ্যোক্তার সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়। তাঁরা জানান, এক মাস হলো গ্যাসের সংকট চলছে। দুই–তিন দিন ধরে সেই সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পোশাক কারখানায় সময়মতো কাপড় পৌঁছাবে না। তাতে রপ্তানি ব্যাহত হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন