শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ

নিরাপত্তা না পেলে কেন আসবে মানুষ

নিরাপত্তা না পেলে কেন আসবে মানুষ— বিএমবিএ ও সিএমজেএফের আলোচনায় এ প্রশ্ন তোলেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। তিনি বলেন, যদি বিনিয়োগকারীর অর্থের নিরাপত্তা দিতে না পারি তাহলে বিনিয়োগকারী বাজারে আসবে না।

বিজ্ঞাপন
default-image

পুঁজির নিরাপত্তা না থাকলে পুঁজিবাজারে সাধারণ মানুষ কেন তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করবে? প্রশ্নটি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের। নিজে প্রশ্ন তুলে নিজেই দিয়েছেন উত্তর। বললেন, যদি বিনিয়োগকারীর অর্থের নিরাপত্তা দিতে না পারি তাহলে বিনিয়োগকারী বাজারে আসবে না। তাই বিনিয়োগকারীর পুঁজি যাতে কেউ বেআইনিভাবে ও অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সেই বার্তা আমরা শুরু থেকে বাজারে দিয়ে যাচ্ছি।

বিনিয়োগকারীর অর্থের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে বিএসইসির চেয়ারম্যান আরও বলেন, যাঁরা খারাপ উদ্দেশ্যে শেয়ারবাজারে এসে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, বছরের পর বছর কোম্পানি ভালোভাবে চালাচ্ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে বিএসইসি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ও পুঁজিবাজারবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) যৌথ উদ্যোগে গতকাল শনিবার আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকের হাতে ২ শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে, তাঁদের পদ ছাড়তেই হবে। এ জন্য ন্যূনতম শেয়ার ধারণে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যাঁরা ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হবেন, তাঁদের অপসারণ করা হবে। প্রয়োজনে আমরা কোম্পানির বোর্ড ভেঙে দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বতন্ত্র পরিচালক দিয়ে সেই বোর্ড পুনর্গঠন করব।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর ২০১১ সালের নভেম্বরে ন্যূনতম শেয়ার ধারণের আইন করে ওই বছর পুনর্গঠিত বিএসইসির তৎকালীন কমিশন। যার নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম খায়রুল হোসেন। কিন্তু সেই আইন অমান্য করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির পরিচালক দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ফলে আইন করার ৯ বছর পর এসে সেই আইন পরিপালনে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে শিবলী রুবাইয়াতের নেতৃত্বাধীন বিএসইসির নতুন কমিশন।

বিএসইসির চেয়ারম্যান আরও বলেছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির যেসব পরিচালকের হাতে ২ শতাংশের কম শেয়ার রয়েছে, তাঁদের তালিকাও স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষকে সেই নির্দেশ দেওয়া হবে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালকদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, সুশাসন ছাড়া শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউসের শাখা সম্প্রসারণেরও দাবি জানান। জবাবে বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, এখন জোর দিতে হবে ডিজিটাল আউটলেটে।

মূল প্রবন্ধে মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শেয়ারবাজারে কত কোম্পানি আছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো ভালো কোম্পানি আছে, সেটি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন, সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমিতির সভাপতি হাসান ইমাম, ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান ও মিনহাজ মান্নান, সংস্থাটির সাবেক পরিচালক আহমেদ রশীদ, বিএমবিএর মহাসচিব রিয়াদ মতিন। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান ও সিএমজেএফের সভাপতি হাসান ইমাম।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন