নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে ভুগছি আমরা

এবারের বাজেটে আবাসন খাত নিয়ে কোনো কথা নেই। ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় কমানোর বিষয়ে কিছু বলেননি অর্থমন্ত্রী। আমাদের সংগঠন রিহ্যাব নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নিবন্ধন ব্যয় এখনো ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রয়ে গেছে। এ কারণে ফ্ল্যাট নিবন্ধনে গ্রাহকদের আগ্রহ কম। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনার কথা বলেছিলেন। এরপর ১-২ শতাংশ কমেছে বটে, কিন্তু তাতে তেমন কোনো লাভ হয়নি।

বর্তমানে নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে আমরা আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা ভুগছি। সাম্প্রতিক সময়ে রডের দাম প্রতি টনে ২০-২৫ হাজার টাকা বেড়েছে। প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দামও বেড়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। বাজেটে সিমেন্ট উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে করহার ৩ থেকে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিমেন্ট ও ইস্পাত পণ্য সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর কর্তনের হার ৩ থেকে ২ শতাংশ করার পাশাপাশি ইস্পাতের শুল্ক প্রতি টন ১ হাজার ৫০০ থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে। এতে রডের দাম সামান্য কমবে। প্রতি ব্যাগ সিমেন্টের দাম ২-৩ টাকা কমতে পারে, আবারও না-ও কমতে পারে। তার মানে, রড-সিমেন্ট নিয়ে চলমান কষ্ট লাঘব হচ্ছে না।

মোটা দাগে বাজেট অবশ্য ব্যবসাবান্ধব হয়েছে। ‘মেড ইন বাংলাদেশ ব্র্যান্ড’ প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্থানীয় উৎপাদকদের নানা রকম কর ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আমরাও আবাসন খাতে মেড ইন বাংলাদেশ, অর্থাৎ দেশে উৎপাদিত রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করি। এ ক্ষেত্রে আরও ছাড় দিলে নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় কমত। করোনাকালে আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতেন।

বাজেটে করপোরেট কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এটি ভালো উদ্যোগ। তবে আবাসন খাতে ভ্যাট কমানো হয়নি। নির্মাণসামগ্রী কিনলেই সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অগ্রিম কর দিতে হয়। এটি বন্ধ করা দরকার। অন্তত করোনাকালে সুযোগটি দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, করোনার বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে আমরা আবাসন ব্যবসায়ীরা কোনো ঋণ পাইনি। বর্তমানে বড় কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করলেও ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান খুব একটা ভালো নেই।

আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখা না রাখা নিয়ে বাজেটে কিছু বলা হয়নি। পরে অবশ্য জানা গেছে, শর্ত সাপেক্ষে আবাসন খাতে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সুযোগটি থাকা খুবই জরুরি। তাতে দেশের টাকা দেশের ভেতরে থেকে যাবে, এটাই তো হওয়া উচিত। না হলে দেশেরই ক্ষতি।

বাজেটে মধ্যবিত্তের জন্য তেমন কিছু নেই। মধ্যম আয়ের মানুষেরা যেন ৫ শতাংশ সুদে নিজের প্রথম ফ্ল্যাটটি কিনতে পারেন, সে রকম একটা উদ্যোগ থাকলে ভালো হতো। সে জন্য বাজেটে বিশেষ তহবিল রাখা যেত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজেই তো সবার জন্য আবাসনের কথা বলেছেন। সেটি বাস্তবায়নের জন্য একটা বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। রিহ্যাব থেকে বাজেটে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি।

বাজেটে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে অন্যান্য জেলায় হাসপাতাল স্থাপন করলে ১০ বছর কর অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের পাশাপাশি আবাসন নির্মাণেও কর অব্যাহতির সুযোগ দেওয়া হলে খুব ভালো হতো। তাহলে অনেক আবাসন কোম্পানি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলার বাইরে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হতো।