৬৯ কর্মীর অভিযোগ

ন্যায্য পাওনা দিচ্ছে না ব্রিটিশ কোম্পানি ডেবেনহ্যামস

বিজ্ঞাপন
default-image

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ডেবেনহ্যামস বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার পোশাক কেনে। একসময় তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিভিন্ন কারখানায় পোশাক তৈরি করাত তারা। তবে সাত বছর আগে ঢাকায় লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করে সরাসরি ব্যবসা শুরু করে। করোনার কারণে গত এপ্রিলে হঠাৎ করে ৬৯ জন কর্মী ছাঁটাই করে অফিস বন্ধ করে দেয় ডেবেনহ্যামস।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

লিয়াজোঁ অফিস বন্ধ কিংবা কর্মী ছাঁটাই, কোনো কিছুতেই ব্রিটিশ এই কোম্পানি বাংলাদেশের আইন মানেনি—এমন অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের সাবেক কর্মীদের সংগঠন ডেবেনহ্যামস বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (ডিবিইইউ)। অবিলম্বে কর্মীদের এপ্রিলসহ চার মাসের নোটিশ পিরিয়ডের বেতন, দুটি উৎসব ভাতা, অর্জিত ছুটি ও আনুতোষিক বা গ্র্যাচ্যুয়িটির অর্থ পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নের নেতারা।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেছে ডিবিইইউ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের সভাপতি বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ আতাউল্লাহ। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটের (বাশি) ট্রাস্টি গোলাম মোর্শেদ, ডিবিইইউর সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মাহমুদ তানভীর প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ইউনিয়নের সভাপতি বাহাউদ্দিন মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, মহামারি চলাকালে গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশের ৬৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করেছে ডেবেনহ্যামস। কার্যক্রম বন্ধে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি তারা। এ ছাড়া কর্মীদের কোনো ধরনের পাওনা পরিশোধ না করেই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির এমন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের পরিপন্থী।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউনিয়নের সভাপতি আরও বলেন, চাকরিচ্যুত কর্মীদের অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় ব্রিটিশ এই কোম্পানি আইন ও নিয়ম মানবে না, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিশ্বের ১৮টি দেশে ডেবেনহ্যামসের ২০০টি বিক্রয়কেন্দ্র আছে। তার মধ্যে যুক্তরাজ্যেই আছে ১৩০টি। তাদের কর্মিসংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ছিল ২৯০ কোটি ইউরো। তখন কর–পরবর্তী মুনাফা হয় ৩ কোটি ৩২ লাখ ইউরো। সে বছর বাংলাদেশের ৬৭টি পোশাক কারখানা থেকে পোশাক তৈরি করায় ডেবেনহ্যামস। সেখানে কাজ করতেন ১ লাখ ৬৫ হাজার শ্রমিক।

জানতে চাইলে ফেরদৌস মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ডেবেনহ্যামসের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের সাবেক ৬৯ জন কর্মীর পাওনা প্রায় ১০ লাখ ডলার বা সাড়ে ৮ কোটি টাকা। পাওনা পরিশোধের বিষয়ে ব্রিটিশ এই কোম্পানির কর্মকর্তারা কোনো রকম আশ্বাস দেননি। এমনকি ই-মেইলে যোগাযোগ করলেও উত্তর পাওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, অফিস বন্ধ করার সময় যেসব ক্রয়াদেশের বিপরীতে পোশাক তৈরি হচ্ছিল, তা এখন নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন