বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদহারের মতো নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরেও ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করল। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুক্তি হচ্ছে, মেধাবীরা যাতে ব্যাংকিংকে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার বা পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী হন, সে জন্যই এই পদক্ষেপ।
তবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করলেও অনেক ব্যাংক চাকরি ছাড়ার পরের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা কমিয়েছে। ফলে ওই সব ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মাসিক বেতন-ভাতা বাড়লেও প্রকৃত আর্থিক সুবিধা বাড়েনি। ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বাড়ালেও নিয়মিত কর্মচারী ও চুক্তিভিত্তিক আউটসোর্সিং কর্মীদের বাড়ায়নি। এ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘মেসেঞ্জার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহায়ক অথবা সমজাতীয় পদে কিংবা সর্বনিম্ন যেকোনো পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের প্রারম্ভিক বেতন হবে ২৪ হাজার টাকা।’ পাশাপাশি আউটসোর্সিং বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণেও সামঞ্জস্য রাখতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক ভালোভাবে চলতে হলে কর্মীদেরও ভালো রাখতে হবে। নির্দেশনা মেনে পদ্মা ছাড়া সব ব্যাংকই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। এরপরও কোনো অভিযোগ এলে নিশ্চয়ই কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে গত ১ মার্চ থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অনেক ব্যাংক এপ্রিল থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর করে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বেতন-ভাতাও বেঁধে দিয়েছে। সে অনুযায়ী শিক্ষানবিশকালে সাধারণ ব্যাংকিং বিভাগের কর্মকর্তাদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা ২৮ হাজার ও ক্যাশ বিভাগের কর্মকর্তাদের ন্যূনতম বেতন-ভাতা ২৬ হাজার টাকা। আর শিক্ষানবিশকাল শেষে সাধারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা ৩৯ হাজার ও ক্যাশ বিভাগের কর্মকর্তাদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা ৩৬ হাজার টাকা হবে। একইভাবে ওপরের সারির কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতাও ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ সব বিভাগীয় শহরে অফিস সহায়কদের সর্বনিম্ন বেতন-ভাতা ২৪ হাজার টাকা, যা জেলা শহরে ২১ হাজার টাকা ও উপজেলায় ১৮ হাজার টাকা।

শুরুতে বেতন–ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া সিদ্ধান্তে আপত্তি জানায় ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) ও নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। তবে জনমুখী সিদ্ধান্ত হওয়ায় নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নেয়। সেই সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে বিশেষ পরিদর্শন শুরু করে তাদের চাপে ফেলে দেয়। ফলে শেষ পর্যন্ত সব ব্যাংক ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ–সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চাকরি স্থায়ীকরণ বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির জন্য আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনের শর্ত আরোপ করা যাবে না। এ ছাড়া শুধু নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে না পারা বা অদক্ষতার অজুহাতে পদোন্নতি না দেওয়া কিংবা চাকরিচ্যুত করা যাবে না।

জানতে চাইলে দি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমরা ব্যাংকের ৪ হাজার ৩১ কর্মীর বেতন বাড়িয়েছি। এতে মোট বার্ষিক বেতন বাড়ল ৭০ কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে ২ হাজার ৩১৫ জন স্থায়ী কর্মী, ১ হাজার ১৪৩ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী, আর ৫৭৩ জন আউটসোর্স কর্মী। আমরা সবার প্রভিডেন্ট ফান্ড খরচও বাড়িয়েছি।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন