এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘টিসিবি থেকে নির্ধারিত সময়ে পণ্য বুঝে পেলেও ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা হাতে না আসায় আমরা পণ্য বিক্রয় শুরু করতে পারিনি। শুনেছি, টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের দায়িত্ব দিয়েছিল সিটি করপোরেশনকে। স্থানীয় কাউন্সিলররা এই কার্ড বিতরণ করবেন এবং আমাদের তালিকাসহ কার্ডের কপি দেবেন।’

এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আবুল বাসার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের হাতে কার্ড দেরিতে পৌঁছেছে। সে জন্য কার্ড বিতরণে দেরি হচ্ছে। কার্ডের জন্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা ও লেখালেখি করাটাও বেশ সময় সাপেক্ষ। তবে শনিবারের মধ্যে কার্ড বিতরণ শেষ করতে জোর প্রচেষ্টা চলছে। রোববার থেকে কার্ডধারীরা পণ্য নিতে পারবেন।’

পরিবার কার্ডের তালিকা না পাওয়ায় আরও বেশ কয়েকজন পরিবেশক পণ্য বিতরণ করতে শুরু করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। রাজধানীর চামেলিবাগের টিসিবির পরিবেশক সোপান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবার কার্ডধারীদের তালিকা না পাওয়ায় টিসিবির পণ্য বিক্রয় শুরু করতে পারিনি, এখনো কাউন্সিলর অফিসে অবস্থান করছি। কার্ডের বিষয়টি সমাধান হলেই পণ্য বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছি।’

কিন্তু এই পরিবার কার্ড করার জন্য টিসিবির পক্ষ থেকে আরও প্রায় দেড় মাস আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কার্ড বিতরণ না হওয়ায় মাসখানেক আগে টিসিবি পণ্য বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেও স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। সুব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে বলে সংস্থাটি তখন ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রি বন্ধ করে দেয়। সিদ্ধান্ত নেয়, শুধু পরিবার কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করার। তবে পরিবার কার্ডে পণ্য বিক্রির শুরুটা হলো সেই অব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই।

বিষয়টি টিসিবির নজরে এসেছে স্বীকার করে সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘কিছু ওয়ার্ডে এখনো কার্ড বিতরণ সম্পন্ন না হওয়ায় পরিবেশকেরা আজই পণ্য বিক্রি শুরু করতে পারেননি। আমরা সেসব কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলেছি; তাঁরা কথা দিয়েছেন, দু-এক দিনের মধ্যে কার্ড বিতরণ শেষ হবে।’

এদিকে রাজধানীর দক্ষিণ বেগুনবাড়ি এলাকায় দেখা গেছে, পরিবার কার্ডধারীদের কাছে টিসিবির এক পরিবেশক পণ্য বিক্রি করেছেন। তবে কার্ড পাননি এমন অনেকে সেখানে ভিড় জমান। কার্ড না পাওয়া এসব নিম্নবিত্ত মানুষের অনেকেই সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্র।

এ দফায় একজন ভোক্তা একবারে সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১১০ টাকা, চিনি কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা ও মসুর ডাল ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। দেশব্যাপী টিসিবির এ কার্যক্রম চলবে ৫ জুলাই পর্যন্ত।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন