default-image

গত সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরের গভীরে যাওয়া জেলেরা অবশেষে তাঁদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ার খবর পাঠিয়েছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গে কিছুটা হলেও ইলিশের খরা কাটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জুন থেকে মৌসুম শুরু হলেও পশ্চিমবঙ্গে সেভাবে ইলিশের দেখা মেলেনি। নিম্নচাপ ও উত্তাল সমুদ্র বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে ইলিশ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের। তবে এক সপ্তাহ ধরে আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। জেলেরা সাগরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ার খবর পাঠানোর ফলে ট্রলারমালিক, আড়তদার, খুচরা বিক্রেতা, ভোক্তা—সবাই এখন ভীষণ খুশি।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকেও এবার ইলিশ আসছে না। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তবে গত বছর পূজার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির ব্যবস্থা করেছিলেন।
বিজ্ঞাপন

পশ্চিমবঙ্গ ইউনাইটেড ফিশারমেন অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা বিজন মাইতি সোমবার সাংবাদিকদের জানান, গত ২৮ আগস্ট দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুর থেকে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি ট্রলার নিয়ে বেশ কয়েক হাজার জেলে সমুদ্রে ইলিশ ধরতে গিয়েছিলেন। তাঁরা ৩ হাজার ৫০০ টনের মতো ইলিশ ধরতে পেরেছেন। মাছ নিয়ে বেশ কিছু ট্রলার ইতিমধ্যে দুই জেলার বিভিন্ন মৎস্যঘাটে ফিরেছে। বাকি ট্রলারগুলোও দিন দুয়েকের মধ্যে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজন মাইতি আরও জানান, এবারে ধরা পড়া ইলিশের ওজন ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। রয়েছে এক–দেড় কিলোগ্রাম ওজনের ইলিশও।

গত জুনে শুরু হওয়া ইলিশ ধরা চলবে মৌসুমজুড়ে। চলবে আসন্ন দুর্গাপূজা পর্যন্ত। পশ্চিমবঙ্গে এখন ছোট–বড় মিলিয়ে ৯ হাজার জলযান ইলিশ ধরার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্য দিকে বাংলাদেশ থেকেও এবার ইলিশ আসছে না। ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তবে গত বছর পূজার সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানির ব্যবস্থা করেছিলেন।

বঙ্গোপসাগরে ধরা না পড়ায় এত দিন পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের ভরসা ছিল গুজরাটের ইলিশ আর ওমানের ইলিশজাতীয় চকোরি মাছ।

বিজ্ঞাপন
প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র থেকে ৩০–৩২ হাজার টন ইলিশ পাওয়া যায়। তবে গত বছর আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে মিলেছিল ১৯ হাজার টন। তবে এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে।
অতুল দাস, সভাপতি, মৎস্য ব্যবসায়ী ও পশ্চিমবঙ্গের হিলসা ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে মৎস্য ব্যবসায়ী ও পশ্চিমবঙ্গের হিলসা ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অতুল দাস গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র থেকে ৩০–৩২ হাজার টন ইলিশ পাওয়া যায়। তবে গত বছর আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে মিলেছিল ১৯ হাজার টন। তবে এবার প্রচুর ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করেছে। এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় পূজা পর্যন্ত প্রচুর ইলিশ মিলবে বলে আশা করেন তিনি।

ইলিশ ধরা পড়ার খবরে দীঘা, শংকরপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, নামখানা, ফ্রেজারগঞ্জ, কাকদ্বীপ, রায়দিঘী, ডায়মন্ড হারবারসহ সমুদ্র উপকূলের জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0