default-image

জানুয়ারির হিসাব ধরে চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৮০২ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। এটি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭১ কোটি ডলার বা ৮ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ কম।
কয়েক বছর ধরে জনশক্তি রপ্তানি কমছিল, বিদায়ী বছরে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। আবার সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জনশক্তি দেশে ফিরে আসে। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রবাসী-আয়ের ওপর। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসাও কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার বলেছে, জানুয়ারি মাসে বিগত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ প্রবাসী-আয় দেশে এসেছে। যার পরিমাণ ১২৫ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, গত নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবাসী-আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০২ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকও বলেছে, ‘জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স-প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে মর্মে আশা করা যায়।’
অবশ্য দুই অর্থবছরের সাত মাসের তুলনায় প্রবাসী-আয় কমে গেলেও রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উচ্চতায় রয়েছে। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি থাকা, সেবা খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাত বিদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ করায় রিজার্ভ বৃদ্ধির মূল কারণ।
দেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগ এবং সরকারি খাতে বিদেশি ঋণ ও অনুদান।
এদিকে গত বছর বৈদেশিক মুদ্রার অন্তঃপ্রবাহ বেশি হওয়ায় ডলার-টাকার মান ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাজার থেকে কিনতে হয়েছে। ডলারের দর স্থিতিশীল রাখতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ২৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার কিনেছে। আগের অর্থবছর কিনেছিল ৪৫৪ কোটি ডলার।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন