default-image

বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানি ফাইজারের করোনা টিকার সাফল্যের খবরে চাঙা বিশ্ব শেয়ারবাজার। ফাইজার আজ সোমবার সকালে দাবি করেছে, তাদের করোনা টিকার সাফল্য ৯০ শতাংশ। এ দাবির পর প্রথম চাঙাভাব দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে। করোনাভাইরাসের মতোই দ্রুত যেন সেই প্রভাব সংক্রমিত হয়েছে বিশ্বের বড় সব শেয়ারবাজারেও। তবে শেয়ারবাজারের এই সংক্রমণ ছিল আনন্দের।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন বলছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ডাও জোনস সূচকটি ১৫০০ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। আর এস অ্যান্ড পি-৫০০ সূচকটি কয়েক ঘণ্টায় বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। এর আগে গত মার্চ–এপ্রিলে করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে সবাই যখন ঘর থেকে কাজ শুরু করে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারসহ বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল। কিন্তু এবার করোনা টিকার সাফল্যের খবরে তার চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে বিভিন্ন শেয়ারের দাম।

বিজ্ঞাপন

করোনা টিকার সাফল্যের খবরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফাইজারের শেয়ারের দাম একলাফে ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। আর করোনাকালে যেসব প্রযুক্তি কোম্পানি শেয়ারবাজারে ভালো করছিল, তাদের শেয়ারের দাম পড়ে গেছে। এর মধ্যে জুমের শেয়ারের দর পড়েছে ১৩ শতাংশ, আমাজন তার শেয়ারের বাজারমূল্য হারিয়েছে ৩ শতাংশ আর নেটফ্লিক্সের দাম ৫ শতাংশ কমে গেছে।

এদিকে ফাইজারের টিকার সাফল্যের খবরে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক বেড়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। জার্মানির শেয়ারবাজারের সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি৪০ সূচকটি প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ারবাজারের সূচকের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। তেলের বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনা টিকা শুধু করোনার জন্য নয়, জ্বালানি তেলের বাজারের জন্যও সর্বরোগের ওষুধ হয়ে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ফাইজারের দাবি সত্যি হলে এই টিকাই করোনায় বিধ্বস্ত ব্যবসা–বাণিজ্যকে আবার জাগিয়ে তুলবে। যদি এ টিকা শেষ পর্যন্ত কাজ না করে, তবে অর্থনীতি আবার খারাপের দিকে যেতে পারে।

ফাইজারের এই সাফল্যে যেখানে সবার এত উত্তেজনা, সেখানে ফাইজার কিন্তু নিজেই বলেছে শিগগিরই বড় পরিসরে বাজারে আসছে না এই টিকা। কারণ, তাঁরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পায়নি। ফাইজারের পরিকল্পনা তারা জরুরি ভিত্তিতে এ টিকার ছাড়পত্র চাইবে। যাঁদের ওপর টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাঁদের শরীরে দ্বিতীয়বারের মতো এটি প্রয়োগ করা হবে। এরপর প্রভাব যাচাই করে টিকার ছাড়পত্র চাইবে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে কমপক্ষে দুই মাস।

default-image

ফাইজারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলবার্ট বুরলা বলেছেন, এই বছর তাঁরা ৫ কোটি ডোজ প্রতিষেধক দিতে পারবেন। আগামী বছর ১৩০ কোটি টিকা বিশ্ব বাজারে ছাড়তে পারবেন। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির দুটি কারখানায় এ টিকা উৎপাদিত হবে।
টিকার সাফল্যের খবরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার চাঙা হওয়ার পেছনে ভূমিকা ছিল ডেমোক্র্যাট দলের সদ্য বিজয়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরও। নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকেই দেশটির শেয়ারবাজার একটু একটু করে বাড়ছিল। কারণ, বেশির ভাগ জরিপের ফলাফলে বাইডেনের জেতার বার্তাই দিয়েছিল। শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা যেন নতুন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বাজারে। কারণ, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টরা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের চেয়ে শেয়ারবাজারে ভালো প্রভাব রাখেন। বাইডেনের কাছে শেয়ারবাজারের আশা, তিনি করনীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে তাঁর পূর্বসূরিদের সাফল্যের পথেই হাঁটবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0