বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কামরাঙ্গীরচর এলাকার বেক মসজিদে ইমামতি করেন মো. ইসমাইল। ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন তিনি। গত রাতে ছিল পবিত্র শবেকদর। বেতনসহ এবারের তারাবিহর নামাজ পড়িয়ে যে টাকা পাওয়ার কথা, তা গতকাল নামাজের পর পেয়ে যাবেন বলে একজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা ধার করে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। ৬০০ টাকার মধ্যে ছেলের ও তাঁর পাঞ্জাবি কিনেছেন। ইসমাইল বলেন, ‘গত দুই বছর ঈদে স্ত্রী আর আমি কিছু কিনি নাই। ছেলেরে শুধু শার্ট-প্যান্ট দিছি। কিন্তু এইবার সবাই কিনতেছে, আমরাও না কিনে পারি না। কিন্তু ফুটপাতেও দাম ছাড়তে চায় না।’

স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা রাজধানীর পথের ধারের বাজার। নিজেদের সাধ্যের মধ্যে পরিবারের সবার কেনাকাটাই তাঁরা এখানে করে থাকেন। ফুটপাতের বাজারে ভিড়ও বেশি। সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত তাদের বিক্রিবাট্টা চলে। বায়তুল মোকাররমে এবার সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল পাঞ্জাবি। বিক্রিও ভালো হচ্ছে জানালেন ফরিদ খান নামের এক বিক্রেতা। ফরিদ প্রথম আলোকে বলেন, ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে তিনি পাঞ্জাবি বিক্রি করেন। এবার দিনে অন্তত ২০০ থেকে ৩০০টি বিক্রি করেছেন।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী সুলতানা বেগম নিউমার্কেটের বাইরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে দুই মেয়ের জন্য ফ্রক দেখছিলেন। ফ্রক মেয়েদের পছন্দ হলেও দামে মেলে না। সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘৬০০ টাকা করে চায়। আমার তো হিসাবের টাকা। বেতন– বোনাসের টাকা বাসা ভাড়া, সংসারের খরচ, ধার শোধ করতেই প্রায় শেষ।’ তিনি আরেক বিক্রেতার কাছে যান।

ফুটপাতে যাঁরা নিয়মিত কেনাকাটা করেন, তাঁদের অভিযোগ, এবার বিক্রেতারা দাম ছাড়তে চাচ্ছেন না। নাসরিন আক্তার নামের একজন ক্রেতা প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চাদের সুতির পোশাক ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে কেনা যেত, কিন্তু এবার ৩০০ টাকার কমে ছাড়ে না কেউ।

ফুটপাতের বিক্রেতারা অবশ্য বলছেন, চাল-তেল-ডাল সব কিছুর দাম বেশি। তাঁদেরও সংসার আছে। নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের বিক্রেতা মো. রুবেল বলেন, ‘সারা বছরই কাস্টমার দামাদামি করে। তখন তো কেনা দামেই ছাড়তে হয়। কিন্তু এক ঈদে তো একটু ব্যবসা করা লাগে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন