default-image

কনকর্ড ১৬টি ফ্ল্যাটের বুকিং পেয়েছে। তার বাইরে অনেক ক্রেতার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। সব মিলিয়ে গত মার্চের মেলার চেয়ে এবার তারা ভালো সাড়া পেয়েছে। এমন তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা তারেকুল আলম বললেন, ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আরও অন্তত ১০টি বিক্রি হতে পারে।
ডমিনো ডেভেলপমেন্টসের কর্মকর্তা আবদুল মতিন তালুকদার জানালেন, চার শতাধিক ক্রেতার সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট বিক্রি ভালোই হবে বলে আশা করেন তিনি। আবাসন খাতের আরেক প্রতিষ্ঠান ব্রিকস ওয়ার্কস ডেভেলপমেন্ট ছয়টি ফ্ল্যাটের বুকিং পেয়েছে।
রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) আয়োজিত শীতকালীন আবাসন মেলার শেষ দিন গতকাল রোববার বিকেলে এ রকম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা সবাই স্বীকার করেন, আগের কয়েকটি মেলার চেয়ে এবার ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছেন। অনেক ক্রেতা মেলায় বুকিং না দিলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রচারপত্র নিয়ে গেছেন। পরে যাচাই-বাছাই করে ও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে তাঁরা বুকিং দেবেন বলে আশা করছেন এ কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে অ্যাসুরেন্স ডেভেলপমেন্টের আশফাক হোসেন বলেন, ‘আমরা মেলায় সরাসরি ফ্ল্যাট বিক্রি করি না। ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনই মূল উদ্দেশ্য। শুক্রবার পর্যন্ত দেড় হাজার সামর্থ্যবান ক্রেতার নাম আমরা নিবন্ধন করেছি। তাঁদের বেশির ভাগই ভবিষ্যতে ফ্ল্যাট কিনবেন বলে আমাদের আশা।’
এদিকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৭৪টি ফ্ল্যাট এবং ৪১২টি প্লট বিক্রি হয়েছে। এসব ফ্ল্যাট ও প্লটের আনুমানিক মূল্য ৩৯৭ কোটি টাকা। পাশাপাশি মেলায় আগত ক্রেতাদের কাছ থেকে ৫২১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট, প্লট ও বাণিজ্যিক স্থান (কমার্শিয়াল স্পেস) কেনার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। মেলা গতকাল শেষ হলেও আগামীকাল সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতেই ফ্ল্যাট ও প্লট বিক্রির বিস্তারিত জানাবে রিহ্যাব।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী আবাসন মেলায় ১৫২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে অন্য দিনের মতো ভিড় দেখা যায়নি। কর্মদিবস হওয়ায় দিনে ভিড় কম হলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে বলে জানা গেছে। গত পাঁচ দিনে ২০-২২ হাজার ক্রেতা-দর্শনার্থী মেলায় এসেছেন বলে জানালেন রিহ্যাবের সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
মেলায় কী ধরনের ক্রেতা এসেছেন এবং তাঁদের চাহিদা কেমন, জানতে চাইলে একাধিক আবাসন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, এমনকি প্রচুর নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাও এসেছেন। কমবেশি সব ক্রেতাই ফ্ল্যাটের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এঁদের একটি অংশ নির্দিষ্ট এলাকায় প্রস্তুত ফ্ল্যাট খুঁজেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়াই এর মূল কারণ। ক্রেতাদের একটি অংশ আবার ছোট আকারের ফ্ল্যাটের সন্ধান করেছেন। যদিও মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
জানতে চাইলে রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন প্রথম আলোকে বলেন, এবারের মেলায় ছোট ফ্ল্যাটের চাহিদা অনেক ছিল। এটি আমাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক সদস্য প্রতিষ্ঠান ৭০০-৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট তৈরি করার পরিকল্পনা শুরু করেছে। কম আয়ের মানুষেরা প্রতি বর্গফুট ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায় এসব ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে রিহ্যাব সভাপতির এ বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। নাভানা রিয়েল এস্টেটের কর্মকর্তা মামুন হাসান বলেন, ‘মধ্যবিত্তদের কথা মাথায় রেখে এ ধরনের ফ্ল্যাট তৈরির জন্য দুটি প্রকল্প নিয়েছি। মিরপুরে ৩৫ বিঘা ও মোহাম্মদপুরে ৫ বিঘা জমির ওপর দুটি প্রকল্পে এসব ফ্ল্যাট হবে।’ আর অ্যাসুরেন্সের আশফাক হোসেন জানান, আশকোনা ও আগারগাঁও এলাকায় ছোট ফ্ল্যাটের দুটি প্রকল্প নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেখানে ৮০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট থাকবে।
সামগ্রিকভাবে মেলা নিয়ে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, ‘আগের মেলাগুলোতে দর্শনার্থীরা বেশি এলেও এবার প্রকৃত ক্রেতা ছিলেন বেশি। তাই আশা করছি, ক্রেতাদের যে পরিমাণ সাড়া পাওয়া গেছে, তার অধিকাংশই ফ্ল্যাট বা প্লট কিনবেন।’ তিনি জানান, আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ে রিহ্যাবের গ্রীষ্মকালীন আবাসন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মার্চে কাতারে প্রবাসীদের জন্য একটি মেলার আয়োজন করবে রিহ্যাব।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন