পোশাকশিল্পকে বস্ত্রশিল্পের আওতায় রেখেই বস্ত্র আইন-২০১৭ হতে যাচ্ছে। আইনটি হলে রপ্তানিমুখীসহ সব পোশাক কারখানাকে বাধ্যতামূলকভাবে বস্ত্র পরিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কোনো কারখানা চলতে পারবে না। তা ছাড়া পরিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাইলে কারখানা পরিদর্শন করতে পারবেন। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত আজকের মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনটি উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, খসড়া আইনের বেশ কিছু ধারার বিষয়ে গত বছর তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ এবং বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানায়। সংগঠনগুলোর আপত্তির কারণে খসড়া আইনের কিছু ধারা বাদ দেওয়া হলেও কয়েকটি আমলে নেওয়া হয়নি। তার মধ্যে বস্ত্র পরিদপ্তর থেকে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন নেওয়া ও পরিদর্শনের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
গতকাল রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করে আপত্তির বিষয়টি জানিয়েছেন শ্রমসচিব মিকাইল শিপার ও বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
জানতে চাইলে মিকাইল শিপার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা বাস্তবসম্মত নয়। বস্ত্র আর বস্ত্রজাত শিল্প এক নয়। আমরা গত চার বছর চেষ্টা করে “কমপ্লায়েন্স স্ট্যান্ডার্ড” ঠিক করেছি। এখন এটা বস্ত্র পরিদপ্তরকে দেওয়া হলে আবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হব।’ তিনি জানান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনের বিষয়ে আপত্তি জানানো হবে।
অন্যদিকে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খসড়া বস্ত্র আইনটি কার্যকর হলে পোশাকশিল্প মালিকদের হয়রানি বাড়বে। একই সঙ্গে আইনটি শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কত জায়গায় দৌড়াব। শ্রম আইন অনুযায়ী বর্তমানে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে আমাদের লাইসেন্স নিতে হয়। নতুন আইন হলে বস্ত্র পরিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। তা ছাড়া এখন কলকারখানা অধিদপ্তর এবং ক্রেতাদের দুই জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স কারখানা পরিদর্শন করে থাকে। নতুন আইনে আরেকটি সংস্থার পরিদর্শনের মুখোমুখি হতে হবে কারখানা মালিকদের।’
জানতে চাইলে বিকেএমইএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলভ চৌধুরী গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খসড়া বস্ত্র আইনের বেশ কিছু ধারার বিষয়ে আমরা লিখিতভাবে মতামত দিয়েছিলাম। আমরা মনে করি, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নেওয়া কিংবা পরিদর্শন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন