চলতি বছরের শুরু থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ওঠানামার মধ্যে আছে। তবে জুন মাসের শেষে দেশটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ শতাংশে উঠেছে। এটিই চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি।
প্রবৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পাশাপাশি পোশাক রপ্তানির বড় এই বাজারে বাংলাদেশের তৃতীয় স্থানটি অক্ষুণ্ন আছে। তবে চতুর্থ স্থানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যবধান কমে গেছে। পাঁচ মাস শেষে ইন্দোনেশিয়ার চেয়ে ৩৮ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ছয় মাস শেষে ব্যবধানটি কমে ১৯ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ছয় মাস শেষে প্রতিবেশী ভারতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের চেয়ে কিছুটা বেশি হয়েছে, প্রায় ১০ শতাংশ।
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) সম্প্রতি এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। অটেক্সা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক, বস্ত্র ও পাদুকা আমদানির আর্থিক ও পরিমাণগত (বর্গমিটার) হিসাবের তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করে থাকে।
অটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ ২৬৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের ২৪৫ কোটি ডলারের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি। আর পরিমাণের দিক থেকে আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৯৩ কোটি বর্গমিটার তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের ৮৩ কোটি বর্গমিটারের চেয়ে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে বড় এই বাজারটিতে বাংলাদেশের ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসে ইতিবাচক ধারায় ফেরে। এই মাসে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয় ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। পরের মাসগুলোর মধ্যে মার্চে ৬ দশমিক ২৫, এপ্রিলে ৭ এবং মেতে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়।
বাংলাদেশ থেকে গত বছর মোট ৪৮৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয় যুক্তরাষ্ট্রে। তবে প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘রানা প্লাজা ধসের পর আমাদের পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ক্রেতাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। পাশাপাশি বছরের প্রথম তিন মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সংকটটি আরও প্রকট হয়। তবে পরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।’
শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, ‘ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স দেশে কারখানা পরিদর্শন কর্মসূচি শেষ করেছে। এতে ইতিবাচক ফল পেয়ে ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। ক্রয়াদেশও বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক ব্যবসায়ের সবচেয়ে বড় মৌসুম হলো বড়দিন (২৫ ডিসেম্বর) কেন্দ্রিক। এই মৌসুম সামনে রেখে প্রচুর ক্রয়াদেশ পাচ্ছেন দেশের উদ্যোক্তারা। ফলে আগামী মাসগুলোতে রপ্তানি পরিসংখ্যান আরও ভালো হবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করছি।’
অটেক্সার তথ্যমতে, আলোচ্য ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশ থেকে পোশাক আমদানি বাড়িয়েছে। বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি ৩ হাজার ৯০৭ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানির শীর্ষস্থান বা ৩৬ শতাংশই রয়েছে চীনের দখলে। বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটি এই বাজারে ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভিয়েতনামের ৪৯৪ কোটি ডলারের রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে আছে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি করেছে ২৪৯ কোটি ডলারের পোশাক, প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ। পঞ্চম স্থানে আছে ভারত, রপ্তানি করেছে ২০০ কোটি ডলারের পোশাক। ষষ্ঠ মেক্সিকো ও সপ্তম অবস্থানে কম্বোডিয়া। শীর্ষ সাতের মধ্যে মেক্সিকো ও কম্বোডিয়ার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0