default-image

করোনার কারণে বহু লোক কাজ হারিয়েছেন। অনেকের আয় কমেছে। এমন অবস্থায় অর্থনীতিতে চাঙাভাব এনে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিই সরকারের এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কয়েকটি বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারে।

করোনার কারণে যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, কিংবা বহু কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে, সেসব শিল্পকারখানার মালিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা বা প্রণোদনার ব্যবস্থা করা উচিত। যাতে কর্মীদের ফিরিয়ে আনা যায়। এতে কর্মসংস্থানের ঘাটতি কিছুটা পূরণ হবে।

করোনায় কাজ হারিয়ে শহর থেকে বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ গ্রামে ফিরে গেছেন। তাই গ্রামাঞ্চলে যাতে বেশি কর্মসংস্থান হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে কৃষি খাতে বেশি কর্মসংস্থান হয়, দ্রুত কৃষি প্রণোদনার অর্থ ছাড় করতে হবে। এ ছাড়া গ্রামে যাতে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়, সে জন্য অবকাঠামো সুবিধা তৈরি করতে রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট নির্মাণে বরাদ্দ বাড়ানোর দিকে নজর চাই।

বিজ্ঞাপন

করোনায় বেকার চিত্র

  • এপ্রিল-জুলাইয়ে বেকারত্ব ১০ গুণ বেড়েছে: বিবিএস

  • তরুণদের ২৫% বেকার: আইএলও

  • করোনায় ১ কোটি ৬৪ লাখ লোকের আয় কমেছে: বিআইডিএস

  • করোনার আগে ছদ্মবেকার ছিলেন ৬৬ লাখ, তাঁরা এখন বিপাকে

শহর এলাকায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বেশি লোক ভোগান্তিতে পড়েছেন। সবজিবিক্রেতা, রিকশাওয়ালাসহ দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ যাতে নিয়মিত কাজ করে খেতে পারেন, সেই উদ্যোগ নিতে হবে। উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, নির্মাণ খাতে চাঙাভাব থাকলে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বহু লোকের কর্মসংস্থান হয়। তাই নির্মাণ খাতের জন্য সহজ শর্তের আর্থিক সুবিধা দরকার।

কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। কিন্তু এক দশক ধরেই মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের অংশ ২২-২৩ শতাংশের মধ্যে ঘুরাঘুরি করছে। অবশ্য স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে না। মধ্যমেয়াদি উদ্যোগ লাগবে। অবশ্য এই বিষয়ে সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও (যেমন সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ব্যবসা–বাণিজ্য সহজ করা) এর অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।

চাকরির বাজার

  • করোনার কারণে চাকরির বাজারে সংকোচন হয়েছে

  • এপ্রিল ও মে মাসে বিডিজবসে চাকরির বিজ্ঞাপন তলানিতে ছিল

  • অক্টোবরে এসে ৮০-৯০% বিজ্ঞাপন ফিরে এসেছে

  • নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ কম

বাংলাদেশে যে বেকারত্বের হার দেখানো হয়, আমি বিশ্বাস করি না। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার মাত্র ৪ শতাংশের মতো। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৯ শতাংশ। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? সপ্তাহে এক ঘণ্টা মজুরির বিনিময়ে কাজ করলেই বাংলাদেশে বেকার ধরা হয় না। প্রতিদিন উত্তরার আজমপুরে সকালবেলায় রাস্তার পাশে বহু লোক কোদাল, ঝুড়ি নিয়ে বসে থাকেন। তাঁদের যদি সপ্তাহে এক দিন এক ঘণ্টার জন্য কাজ দেওয়া হয়, তাহলে তাঁদের জীবন–জীবিকা চলবে? তাই বাংলাদেশের বেকারত্বের হার বাস্তবসম্মত নয়। (অনুলিখন জাহাঙ্গীর শাহ)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0