মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা এ সম্ভাবনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিকারকদের সংগঠন ইউনাইটেড স্টেটস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের এক গবেষণায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সম্ভাবনা ও সমস্যা দুটোই উঠে এসেছে। ‘ইউএস ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বেঞ্চমার্কিং স্টাডি ২০১৫’ শীর্ষক এই গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব রোড আইল্যান্ডের সহকারী অধ্যাপক শেং লু। এতে মার্কিন বস্ত্র ও পোশাক খাতের বিভিন্ন ব্র্যান্ড, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকের উৎস হিসেবে মার্কিন ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ এখনো জনপ্রিয়। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতায় গত বছরের তুলনায় এবার তা কিছুটা কমেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনার পরিমাণ বাড়াবে তারা। তবে ২০১৪ সালে এমন মত দিয়েছিল ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা।
দেশের পোশাকশিল্প ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ছাড়াও বিভিন্ন কারণে তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। কারখানা পরিদর্শনের কারণে কিছু কারখানা বসে গেছে। আবার অবকাঠামোগত সমস্যার কারণেও শিল্পে নতুন কারখানা আসছে না। ফলে খুব শিগগিরই এই অবস্থার উন্নতি হওয়ার আশা নেই।
পোশাক আমদানির উৎস হিসেবে মার্কিন ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে আছে চীন। আগামী দুই বছরে চীনের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের কথা বলেছেন তাঁরা। পাশাপাশি তাঁদের চীনের ওপরও নির্ভরতা থাকবে বলে জানান। কারণ বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া এখনো কাঁচামালের জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল। তাই আমদানি খরচ বেশি হলেও চীন থেকে এখনই তাদের বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়।
তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের বড় প্রতিযোগী দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার নাম উঠে এসেছে গবেষণায়। এতে অংশ নেওয়া মার্কিন ক্রেতারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে যাঁরা পোশাক কেনেন, তাঁদের ৮৭ শতাংশ ভিয়েতনাম, ৬৭ শতাংশ ভারত ও ৬০ শতাংশ ইন্দোনেশিয়া থেকে পোশাক ক্রয় করেন।
এদিকে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও প্রতিযোগী দুই দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতের চেয়ে পিছিয়ে আছে। পোশাক রপ্তানিতে চলতি বছরের প্রথম দুই ও তিন মাস শেষে বাজারটিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২ দশমিক ৮২ ও ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। একই সময়ে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭১ ও ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
আগামী পাঁচ বছরে তৈরি পোশাক ব্যবসার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অধিকাংশ মার্কিন ব্যবসায়ী ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ মনে করেন, এ ব্যবসার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। ৪৩ শতাংশ মনে করেন, উচ্চ উৎপাদন খরচ বা আউটসোর্সিং ব্যয় প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ৯০ শতাংশ ব্যবসায়ীর মতে, পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা কম হচ্ছে।
তৈরি পোশাকিশল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় কেন আমরা পিছিয়ে পড়ছি, সেটি ভাবার সময় এসেছে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারানোর অন্যতম কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। শুধু মুখে না বলে এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা করা দরকার।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন