নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

বাজারে টাকার জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ, শঙ্কা খেলাপি ঋণ ও মুল্যস্ফীতি

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য প্রায় ১৭ বছর কমিয়ে এনেছে ব্যাংক রেট, কমানো হয়েছে রেপো ও রিভার্স রেপো সুদ হারও। রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর পুনঃ অর্থায়নে ব্যাংক রেট হিসাবে সুদ গুনতে হয়। এভাবে টাকার প্রবাহ বাড়লে দেশের মূল্যস্ফীতি ও খেলাপি ঋণ বাড়ার আশঙ্কা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে এমন ঘোষণা আশঙ্কার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও মুদ্রানীতিকে ‘সম্প্রসারণমুখী ও সংকুলানমুখী’ বলছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আজ বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি প্রকাশ করা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে গত দেড় দশক ধরে চলা মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠান আয়োজন করে করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমনকি অনলাইন মাধ্যমেও কোন অনুষ্ঠান করেনি। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া যায়নি।

করোনার ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হচ্ছে, তা থেকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আর সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

মুদ্রানীতিতে নীতি নির্ধারণী সুদ হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে টাকা ধার করে, তা ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ করা হয়েছে। একে রেপো বলা হয়। আর রিভার্স রেপোর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো তাদের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখে। এ ক্ষেত্রে সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ব্যাংক রেট ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৪ শতাংশ। এর ফলে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের সুদ হার হবে ৪ শতাংশ। যদিও করোনার কারণে পুনঃ অর্থায়ন তহবিলের সুদ শূন্য শতাংশও করা হয়েছে।

আর ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা এবং সরকার নির্ধারিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি) এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখে আর্থিক খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করা।

লিখিত বক্তব্যে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতি লক্ষ্য অর্জনে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই কিছু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। সব মিলিয়ে চারটি ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কথা বলেন তিনি।

এগুলো হলো কোভিড-১৯ এর দীর্ঘসূত্রতা ও অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পুনরুদ্ধারের গতি-প্রকৃতি বাধাগ্রস্ত হওয়া। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যে সকল প্রণোদনা, ঋণ ও বিনিয়োগ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে উৎপাদন ও কর্মসৃষ্টি সহায়ক উপায়ে বাস্তবায়িত না হলে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিসহ অনাকাঙ্ক্ষিত মূল্যস্ফীতি সৃষ্টির সম্ভাবনা। বৈশ্বিক চলমান অর্থনৈতিক মন্দার দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেশের রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা। চলমান বন্যার কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন