তেল সরবরাহ কম থাকলেও সরকার নির্ধারিত দরেই তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে খুচরা বাজারে। প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হয় ১৬০ টাকায়। চট্টগ্রামের খুচরা বিক্রেতারা জানান, কোম্পানির ডিলাররা প্রতি লিটার সয়াবিন ১৫৭ থেকে ১৫৮ টাকায় সরবরাহ করছে খুচরা দোকানে।

সয়াবিন তেল–সংকটের বড় চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর কারওয়ান বাজারেও। দেশের সবচেয়ে বড় এই পাইকারি বাজারের বেশ কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁদের প্রত্যেকেই বলেছেন, পরিবেশকদের কাছ থেকে তারা সয়াবিন তেল পাচ্ছেন না। রমজানের শুরু থেকে এই সংকট শুরু হলেও এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, তাঁদের স্টকে আর কোনো পণ্য নেই। এ কারণে ক্রেতারা এসে ফিরে যাচ্ছেন।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি দোকান নিউ সোনারগাঁও জেনারেল স্টোরের ব্যবসায়ী মো. শাহনেওয়াজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের নামকরা চেইন রেস্তোরাঁসহ ধানমন্ডি, ফার্মগেট, বনানী ও মগবাজারের অন্তত ২০টি বড় রেস্তোরাঁ আমাদের থেকে তেল নেয়। তেল–সংকটের কারণে তাদের আজ (সোমবার) পণ্য দিতে পারিনি। রোজার শুরু থেকেই এই অবস্থা। তবে এখন সংকট ভয়াবহ। আগামী দুই–এক দিনের মধ্যে মিলগুলো পণ্য না ছাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

একই বাজারের ইয়াছিন এন্টারপ্রাইজের মালিকের সঙ্গে কথা বলেও একই চিত্র মিলেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. ইয়াছিন বলেন, মিলগুলো কথা দিয়েছিল রোজায় সয়াবিনের সংকট হবে না। কিন্তু বাজারের চিত্র তার উল্টো। রোজার শুরু থেকেই সরবরাহ ছিল নিয়ন্ত্রিত। এখন সেটা একেবারে নেই। তেলের দোকান হলেও এখন আমাকে আটা–ময়দা বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের হাতে সরিষার তেলের মজুত আছে। তাই অনেকে সয়াবিন না পেয়ে সরিষার তেল নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ঢাকার মতো অবস্থা চট্টগ্রামেও। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের শাহ আমানত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক মো.শাহাদাত প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানি থেকে সয়াবিন তেল চেয়েও পাচ্ছি না। আজ (গতকাল) শুধু একটি কোম্পানি তেল সরবরাহ করেছে। তা–ও চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

চট্টগ্রামের আরেকটি বাজার কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের নোমান স্টোরের মালিক আবদুল্লাহ আল নোমান প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগে তেলের চাহিদা বেশি থাকে। অথচ আমাদের শুধু একটি কোম্পানিই তেল সরবরাহ করেছে। চাহিদা ১০০ লিটারের থাকলে পাচ্ছি ৫০ লিটার।

পাইকারি বাজারেও একই চিত্র

খুচরা বাজারের মতো অবস্থা পাইকারি বাজারেও। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের বেচাকেনা কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, কোম্পানিগুলো পরিবেশকদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ আদেশ দেয়। এক মাস ধরে নতুন করে ভোজ্যতেলের সরবরাহ আদেশ দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো। এত দিন পুরোনো সরবরাহ আদেশ হাতবদল হলেও এখন তা–ও কমে এসেছে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি প্রতিষ্ঠান আরএম এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার শাহেদ উল আলম প্রথম আলোকে বলেন, কোম্পানিগুলো সরবরাহ আদেশ আগের মতো দিচ্ছে না। এ কারণে এখন পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের বেচাকেনা কার্যত হচ্ছেই না।

সয়াবিন তেল–সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী শীর্ষস্থানীয় দুটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, যে দরে তাঁরা ভোজ্যতেল আমদানি করছেন, বাজারে তার চেয়ে কম দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে অল্প অল্প করে আমদানি করে সরবরাহ করছেন তাঁরা। বিশ্ববাজারে দামে অস্থিরতা থাকায় বেশি তেল আমদানি করে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন