এইচএসবিসির বাণিজ্য আস্থা জরিপ

বাণিজ্য আস্থায় বাংলাদেশ শীর্ষে

বিজ্ঞাপন
default-image

বাণিজ্য আস্থায় এখন সর্বোচ্চ স্কোর বা নম্বর বাংলাদেশের। বিশ্বের ২৫টি দেশের ওপর বহুজাতিক ব্যাংক দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের (এইচএসবিসি) এক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
এইচএসবিসির ট্রেড কনফিডেন্স সার্ভে বা বাণিজ্য আস্থা জরিপে (টিসিএস) বাংলাদেশের পয়েন্ট চলতি ২০১৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এসে ১৩১ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যা প্রথম ছয় মাসের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট বেশি। অথচ জরিপের অধীন সব দেশের নম্বর ৪ পয়েন্ট কমে ১২০ পয়েন্টে নেমে গেছে, যা বছরের প্রথমার্ধে ছিল ১২৪ পয়েন্ট। অর্থাৎ দ্বিতীয় ছয় মাসে ব্যবসায়ে আস্থা কমেছে। তবে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা অবশ্য মনে করেন, আগামী ছয় মাসে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে।
এইচএসবিসির এই জরিপ অনুযায়ী বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দুর্বলতার মধ্যেও চলতি বছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য আস্থা সূচক বেড়েছে।
বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত থাকা, সার্বিকভাবে খরচ কম হওয়া, অধিক পরিমাণে মুনাফা অর্জন প্রভৃতি বিবেচনায় জরিপে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে একটি শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রবৃদ্ধির ধারা ও সামষ্টিক অর্থনীতিতে নীতি-সহায়তা প্রদানের ফলে বাংলাদেশে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এটি বহুল প্রতীক্ষিত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুযোগ এনে দিয়েছে। এতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) জন্য বাংলাদেশ একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
এইচএসবিসি জরিপের ফলাফল মূল্যায়ন করে কিছু আশাবাদের কথা শুনিয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে আগামী ২০১৭-২০ সালে গড় প্রবৃদ্ধি হবে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। অবকাঠামো উন্নয়ন, ইউরোপে মুদ্রার প্রতিযোগিতাশীলতা ও বাণিজ্য উদারীকরণ সুবাদে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের তিন-চতুর্থাংশই আসে পোশাক ও বস্ত্র খাত থেকে। কিন্তু রপ্তানিমুখী প্রধান আট খাতের মধ্যে সাতটিতেই আগামী ২০১৬-২০ সালে প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দুই অঙ্কের কোঠায় উন্নীত হবে।

বহুজাতিক ব্যাংকটির পূর্বাভাসমতে, সংকুলানমূলক মুদ্রানীতি ও সম্প্রসারিত রাজস্ব নীতির ফলে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। তবে পূর্বাভাসের এই হার সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার (৭ শতাংশ) চেয়ে আধা শতাংশ কম।

পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামোতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এ দেশে এফডিআই আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সেই সঙ্গে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণও বেগবান হবে। পোশাক ও বস্ত্র পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্বে যে অবস্থান গড়ে তুলেছে, সেটিও ধরে রাখতে হবে।

এইচএসবিসির পূর্বাভাসে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলতি ২০১৫ অর্থবছরে গড় প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে ২০১৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ আশা করেন, আগামী ছয় মাসে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে। বিশেষ করে ইউরোপকেই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় রপ্তানি গন্তব্য বলে মনে করেন ৩৭ শতাংশ উত্তরদাতা।

জরিপে অর্ধেকের বেশি উত্তরদাতা মনে করেন, বিশ্বে আগামী ছয় মাসে এশিয়াই হবে বাণিজ্য বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময়। আগের ছয় মাসের জরিপেও এমন আশাবাদই দেখা গিয়েছিল।

প্রায় ৪০ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, পরবর্তী ছয় মাসে সরকারি রেগুলেশন বা বিধিবিধানে পরিবর্তনজনিত প্রতিকূলতাই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।

এক-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, খাদ্যপণ্যে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির চাপ এবং ঋণের বিপরীতে সুদের হার বেশি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে মুদ্রা বিনিময় হারের বর্তমান প্রবণতায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সুবিধা পাবে এবং কাঁচামালসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় কম হবে বলে অনেকেই মনে করেন।

এইচএসবিসির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২০২১ থেকে ২০৩০ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে সার্বিকভাবে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। কিন্তু ওই সময়ে শিল্পজ যন্ত্রপাতি রপ্তানিতে ১২ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি উপকরণে ১৩ শতাংশ এবং যানবাহনের উপকরণে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে।

বর্তমানে এককভাবে বাংলাদেশের প্রধান তিন রপ্তানি গন্তব্য হলো যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করে যথাক্রমে চীন ও ভারত থেকে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন