বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে গত শুক্রবার ব্যাপক দরপতন ঘটে। এতে ওয়ারেন বাফেটের কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের শেয়ারের দর ২ শতাংশ কমে যায়। এতেই বাফেটকে ছাড়িয়ে যান আদানি।

ফোর্বস-এর রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার ট্র্যাকার অনুসারে বিশ্বে আদানির সামনে এখন মাত্র চারজন অতিধনী আছেন। এর মধ্যে শীর্ষ স্থানে রয়েছেন বৈদ্যুতিক গাড়ির কোম্পানি টেসলা ও মহাকাশে রকেট প্রেরণকারী সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক। তাঁর সম্পদের মূল্য ২৬ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার।

বহুজাতিক ই-কমার্স আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেফ বেজোস ১৭ হাজার ২০ কোটি ডলার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ফ্রান্সভিত্তিক বিলাসী পণ্যের বহুজাতিক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বার্নার্ড আর্নল্ট তৃতীয় স্থানে আছেন ১৬ হাজার ৭৯০ কোটি ডলার নিয়ে। চতুর্থ শীর্ষ ধনী হলেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ২০ কোটি ডলারের সম্পদ।

চলতি বছরে আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান গৌতম আদানির প্রতিটি ব্যবসায়ের শেয়ারের দাম ১৯ শতাংশ থেকে ১৯৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। পুনঃ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গণমাধ্যম, বিমানবন্দরসহ আরও বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগ রয়েছে আদানি গ্রুপের।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ আছে আদানির। নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক প্রকল্পগুলোতে ৭ হাজার কোটি ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন আদানি। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) আদানির তিনটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে সেই দেশের যুবরাজের ভাইয়ের কোম্পানি আবুধাবি ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি।

বস্ত্র ব্যবসায়ীর ছেলে আদানি ১৯৮৮ সালে প্রথম একটি ভোগ্যপণ্য রপ্তানি প্রতিষ্ঠান খোলার মাধ্যমে ব্যবসায়ে আসেন। এরপর ২০০৮ সালের মধ্যে তিনি প্রথমবারের মতো ফোর্বস-এর বিলিয়নিয়ার ইনডেক্সে ঢুকে পড়েন। উল্লেখ্য, এক বিলিয়নে ১০০ কোটি। যাঁদের ১০০ কোটি ডলার বা এর চেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাঁদের বলা হয় বিলিয়নিয়ার।

করোনা মহামারি শুরুর পর গৌতম আদানির ভাগ্য আরও সুপ্রসন্ন হতে শুরু করে। ২০২০ সালে তিনি ভারতের দ্বিতীয় ব্যস্ততম মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৭৪ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন। প্রায় একই সময়ে সাড়ে তিন শ কোটি ডলারের বিনিময়ে ভারতের সফটব্যাংকের পুনঃ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ইউনিট অধিগ্রহণ করেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার প্রায় ২২ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে ভারতের বৃহত্তম সামুদ্রিক পরিষেবা সংস্থা ওশান স্পার্কল কেনার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মাত্র দুই বছর আগেও আদানির সম্পদের মূল্য ছিল ৮৯০ কোটি মার্কিন ডলার। কিন্তু করোনার মধ্যে এই সম্পদ বেড়ে ২০২১ সালের মার্চে আনুমানিক ৫ হাজার ৫০ কোটি ডলারে ওঠে। আর ২০২২ সালের মার্চে তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থাৎ ৯ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়।

বর্তমানে ১২ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার নিয়ে ভারত এবং সেই সঙ্গে এশিয়ারও শীর্ষ ধনী। অন্যদিকে ১০ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার নিয়ে ভারতে আদানির পেছনে অবস্থান করছেন মুকেশ আম্বানি।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন