উন্নয়নশীল ও উন্নত—সব দেশেই শতকোটিপতি বা বিলিয়নিয়ার মানুষের সংখ্যা প্রতিবছর বাড়ছে। শীর্ষস্থানীয় ধনী ব্যক্তিরা কীভাবে তাঁদের সম্পদ অর্জন করেছেন, সেটি নিয়ে করা এক গবেষণার তথ্য বলছে, বিশ্বে আজ যাঁরা শতকোটি ডলারের মালিক, তাঁদের বেশির ভাগই ‘সেলফ মেইড’। অর্থাৎ নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতায় এঁদের বেশির ভাগ শীর্ষস্থানীয় ধনী হয়েছেন।

‘হু আর দ্য সুপার রিচ’ শীর্ষক এ গবেষণাটি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিটারসন ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা অনুযায়ী, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদ থেকে বিলিয়নিয়ার বনে যাওয়া মানুষের চেয়ে নিজের চেষ্টায় শতকোটি ডলারের মালিক হয়েছেন, এমন লোকের সংখ্যাই এখন বেশি। নিজের উদ্যোগে যাঁরা বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, তাঁরা মূলত চারটি ক্ষেত্রে কাজ করেন। এগুলো হলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, শীর্ষ নির্বাহী, সরকারের সঙ্গে কাজ করা এবং আর্থিক ও আবাসন খাতের ব্যবসা।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর শীর্ষস্থানীয় ধনীদের গত ১৫ বছরের তালিকা বিশ্লেষণ করে পিয়ারসনের গবেষণায় বলা হয়েছে, উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে ২০০১ সালে সেলফ মেইড বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল ৫৬ শতাংশ, ২০১৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ হয়েছে। এ সময়ে উত্তরাধিকারসূত্রে হওয়া বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা এসব দেশে ৪৪ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে।

উন্নত দেশে সেলফ মেইড ধনীদের সংখ্যাও ২০০১ সালের তুলনায় ২০১৪ সালে এসে বেড়েছে। ২০০১ সালে এমন বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ছিল ৫৮ শতাংশ, ২০১৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৬৩ শতাংশ।

ফোর্বস, ব্লুমবার্গ, ওয়েলথ এক্স-এর মতো যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে, সেখানেও সেলফ মেইড বিলিয়নিয়ারদের আধিক্য চোখে পড়ে। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, বিনিয়োগগুরু ওয়ারেন বাফেট থেকে শুরু করে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ—সবাই নিজের চেষ্টা, পরিশ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

উন্মুক্ত বিশ্বে অবাধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রযুক্তির প্রসার সেলফ মেইড বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন