default-image

চলমান টানা হরতাল-অবরোধে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়ায় পাথরের পাহাড় জমতে শুরু করেছে।
মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনির স্টোন ইয়ার্ডে এমনিতেই তিন লাখ মেট্রিক টন পাথরের মজুত পড়ে ছিল। এর ওপর প্রতিদিন আরও প্রায় দেড় হাজার টন করে যোগ হচ্ছে।
তবে হরতাল-অবরোধে পরিবহন-সংকট সৃষ্টি হওয়ায় পাথর বিক্রিতে ভাটা পড়েছে। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে সাড়ে তিন হাজার টন পাথর। আর বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টন। এতে মজুত দিন দিন বাড়ছে।
সম্প্রতি সরেজমিন খনি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মধ্যপাড়া খনির স্টোন ইয়ার্ডে তিলধারণের জায়গা নেই। পুরো জায়গাজুড়ে কেবল পাথর আর পাথর।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আবুল বাশার অবশ্য প্রথম আলোকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খনিতে উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই চলছে। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাথর বিপণনে কিছুটা ভাটা পড়লেও তা দ্রুত কেটে যাবে।
জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ৮০ লাখ টন পাথরের চাহিদা রয়েছে। সে অনুযায়ী খনিতে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। বর্তমানে ২১ জন পরিবেশকের (ডিলার) মাধ্যমে মধ্যপাড়ার পাথর সারা দেশে বিপণন হয়। বর্তমানে সড়ক, রেলওয়েসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামোতে এখানকার পাথর ব্যবহার করা হয়।
গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপক (স্টোর) সৈয়দ রাফিজুল ইসলাম বলেন, এই খনির পাথর অত্যন্ত উন্নত মানের। ভারতের মানসম্মত পাথর পাকুর গ্রেডের চেয়েও এর মান ভালো। ফলে সরকার সড়ক, রেলপথসহ অবকাঠামো উন্নয়নে মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুতেও মধ্যপাড়ার এই পাথর ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এখনো মধ্যপাড়ার পাথর ব্যবহারে তেমন এগিয়ে আসছে না। এ ব্যাপারে সরকারের যে নির্দেশনা রয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হওয়া উচিত। এতে মধ্যপাড়ার পাথরের বিক্রি বাড়বে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জেটিসি) ২০১৩ সাল থেকে মধ্যপাড়ায় পাথর উত্তোলন করছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খনি এলাকায় বিপুল পরিমাণ পাথরের মজুত রয়েছে। শিগগিরি তারা খনির উৎপাদন বাড়াতে আরও সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রম শুরু করবে। তবে এ জন্য পাথরের চাহিদা আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন