বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিউমার্কেটের ফুটপাতে জুতার পসরা নিয়ে বসেছিলেন জামালউদ্দিন। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে তাঁর। স্বাভাবিক সময়ে তাঁর দৈনিক বিক্রি ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। জামালউদ্দিন বলেন, মাত্র সাত দিনে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। বরং দৈনিক খরচ বাদ দিলে দিনে তেমন আয় হবে না বলেই শঙ্কা প্রকাশ করলেন তিনি।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২৮ জুন থেকে সীমিত আকারে বিধিনিষেধ শুরু হয়। সেদিন থেকেই সারা দেশের দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রয়েছে।পরবর্তীকালে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের বিধিনিষেধ শিথিল করে।

রাজধানীসহ সারা দেশে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খুলে গেলেও ক্রেতাদের ভিড় ছিল শুধু একান্ত প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। কিছুটা বিলাসী পণ্যের দোকান ও অভিজাত বিপণিবিতানে ক্রেতার সংখ্যা ছিল আরও কম। রাজধানীর ইস্টার্ন প্লাজা মার্কেটের প্রথম তলায় তৈজসপত্রের দোকানে মোটামুটি ভিড় থাকলেও দোতলার শাড়ি ও তিনতলার তৈরি পোশাকের দোকানগুলো প্রায় খালিই ছিল। মূল্যছাড় দিয়েও ক্রেতা আকর্ষণ করতে পারছে না তারা। ইস্টার্ন প্লাজার শাড়ির দোকানি আবদুল আলিম বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ ক্রেতা অনলাইনে চলে যাচ্ছে, আর করোনা পরিস্থিতিতে খুব একটা ক্রেতা আসবেন বলে মনে হচ্ছে না।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, অন্য সময়ে কিছুটা বিরতির পর দোকান খুললে প্রথম দিন বিক্রি বেড়ে যায়। কিন্তু আজকের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ক্রেতাদের হাতে টাকা নেই।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্যানুসারে, দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকলে দৈনিক এক হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়।

default-image

দোকান বা বিপণিবিতান খুব ভালো না চললেও পোশাকের দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো মোটামুটি ব্যবসায় ফিরেছে বলে জানান ফ্যাশন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আজহারুল হক। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিকতা না ফিরলেও ক্রেতারা আসছেন। আশা করি, এই সাত দিন অন্তত ভালো ব্যবসা করতে পারব।’

সারা লাইফস্টাইলের পরিচালনা প্রধান মতিউর রহমান জানান, ‘প্রথম দিনে দুপুর পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ের ৭০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। শুক্র ও শনিবার ব্যবসা আরও ভালো হতে পারে।’

ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আবার কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবে। সে সময় দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। ঈদের দিন বাদ দিলে মাঝে মাত্র সাত দিন ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে দোকানপাট ও বিপণিবিতানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানার উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিপণিবিতানের সামনে নিয়ম রক্ষার জীবাণুনাশক থাকলেও থার্মোমিটার ছিল না। মাস্ক পরা বা সামাজিক দূরত্বের বিষয়েও উদাসীনতা দেখা যায়।

অর্থনীতি বাঁচানোর জন্য অল্প সময় দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলার সিদ্ধান্ত অর্থনীতির জন্যই বুমেরাং হবে বলে মনে করছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, অর্থনীতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়েও জোর দেওয়া প্রয়োজন ছিল। শিথিলতার কারণে সংক্রমণ বেড়ে গেলে হিতে বিপরীত হবে।

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন