default-image

বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে রিজার্ভ থেকে অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য সোনালী ব্যাংককে কয়েক ধাপে রিজার্ভ থেকে দেওয়া হবে ২১ কোটি ৫০ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ড। যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। এই অর্থে বাংলাদেশ বিমানের জন্য দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনার দায় শোধ করা হবে (প্রতি পাউন্ড ১০৫ টাকা ১৬ পয়সা)।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৭ জুলাই প্রথম ধাপের ৯ কোটি ৯১ লাখ পাউন্ড সোনালী ব্যাংকে জমা করেছে। নিউইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে পরিচালিত সোনালী ব্যাংকের হিসাবে এ পাউন্ড জমা হয়েছে। আরও ৬ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড জমার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাকি অর্থ পরবর্তী সময়ে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশের কেনাকাটা মূলত ডলারে করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে সোনালী ব্যাংককে যে অর্থ দিচ্ছে, তা যুক্তরাজ্যের ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হবে। তাই এই অর্থ পাউন্ডে দেওয়া হচ্ছে।

এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংক বিমান কিনতে রিজার্ভ থেকে সোনালীসহ বিভিন্ন ব্যাংককে অর্থ দিয়েছিল। তবে সেটা ছিল স্বল্প মেয়াদি। এবারই প্রথম ১০ বছর মেয়াদে রিজার্ভ থেকে সোনালী ব্যাংককে এত অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যদিও সোনালী ব্যাংকের কাছে আগের বকেয়া রয়ে গেছে এখনো। দীর্ঘ মেয়াদে রিজার্ভ থেকে বিমানকে অর্থ দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে এতে কোনো ঝুঁকি নেই। কারণ, ৩২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ আছে, যা দিয়ে ৬ মাসের দায় শোধ হবে। তবেসোনালী ব্যাংকের জন্য ঝুঁকি আছে। তারা আদৌ বিমান থেকে টাকা পাবে কি না সন্দেহ আছে। কারণ, বিমানের কর্মকর্তারা অদক্ষ ও দুর্নীতিতে জড়িত। সরকার যেহেতু গ্যারান্টি দিচ্ছে, তাই দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরেই যাবে।

বিমান এমনিতেই বড় ধরনের পুঁজির সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে ঋণ নেওয়ার যোগ্যতাও হারিয়েছে। বিমানের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিমানের মূলধন ২ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ঋণ ৫ হাজার ৬৬ কোটি টাকা। নতুন চার উড়োজাহাজ কিনতে নেওয়া ঋণ যুক্ত করলে এটা বেড়ে দাঁড়াবে ৯ হাজার কোটি টাকায়।

জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে। সর্বশেষ ড্রিমলাইনারটি আগামী সেপ্টেম্বরে দেশে আসতে পারে।

গত ১৮ জুলাই সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, বাংলাদেশ বিমানকে ১০ বছর মেয়াদে ২১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ঋণ প্রদানের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের হিসাবে প্রথম কিস্তির ৯ কোটি ৯১ লাখ পাউন্ড জমা করা হয়েছে। এতে আমানতের সুদহার হবে ৬ মাস মেয়াদি লন্ডন আন্তব্যাংক সুদহারের সঙ্গে বাড়তি ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি সোনালী ব্যাংককে বেশ কিছু পরামর্শও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম গ্যারান্টি গ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া। আমানতের কিস্তি পরিশোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া। এ ছাড়া আগের ৫৬২ কোটি টাকা আমানত রাখার সময় যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছিল, তার আদলে নতুন করে একটি এমওইউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া, আর আগের আমানতের বকেয়া ২৮৪ কোটি টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, নতুন করে সোনালী ব্যাংককে বরাদ্দ দেওয়ার পর সেখান থেকে পুরোনো পাওনা সমন্বয় হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ থেকে বিমান কিনতে অর্থ দেয়। ওই সময়ে বিমান কিনতে ইস্টার্ণ ব্যাংকের নেতৃত্বে ১০টি ব্যাংককে দেওয়া হয় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এরপর বিমানের ঋণ ব্যবস্থাপনা চলে যায় পুরোপুরি সোনালী ব্যাংক ও লন্ডনের সোনালী ব্যাংকে।

 জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মুদ্রায় বিনিয়োগ করি, আমানত হিসেবেও রাখি। এর বিনিময়ে সুদ পাই। এবারও বিমান কেনার জন্য সোনালী ব্যাংকে পাউন্ডে আমানত রাখা হচ্ছে। এতেও সুদ মিলবে। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম গ্যারান্টির বিপরীতে সোনালীতে আমানত রাখা হচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0