সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জন্য সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনায় থাকা এ নতুন বাংলাদেশিরা উন্নয়নের ছোঁয়া পাবেন। বিলুপ্ত ছিটমহলে সড়ক, সেতু-কালভার্ট, মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান-শ্মশান, হাটবাজার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ১৮০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উঠছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।
এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করে পরিবহন ব্যয় কমানো হবে। এতে কৃষি ও অকৃষি পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়বে। এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকাজে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ২১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ১৫টি মসজিদ ও সাতটি মন্দির, আটটি ঘাট, ১২টি হাটবাজার, ৭৪১ মিটার কালভার্ট ও সেতু, চারটি কবরস্থান ও তিনটি শ্মশান নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, দশকের পর দশক এসব ছিটমহলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি বললেই চলে। এখন তাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জন্য নতুন প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত বছরের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের হয়ে যায়। এ ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছিল। আর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের অংশ হয়ে যায়। ভারতে চলে যাওয়া বাংলাদেশের বিলুপ্ত ছিটমহলে ৩৭ হাজারের মতো মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক হয়েছেন। তাঁরা বাংলাদেশের সব নাগরিক সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশে বিলুপ্ত ছিটমহলগুলো পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় অবস্থিত। এখন এসব এলাকায় উন্নয়নে সরকার প্রকল্প নিল।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0