বিশেষ সুযোগ নিয়ে বেসরকারি ব্যাংক কৃষি শাখা খুলতে পারবে

দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) ঋণ বিতরণের জন্য পৃথক শাখা খুলতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ দুটি অগ্রাধিকার খাতে অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক গতিধারাকে বেগবান করতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী বছর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এসএমই সার্ভিস সেন্টারের পরিবর্তে এসএমই অথবা কৃষি শাখা নামে বেসরকারি ব্যাংকের নতুন শাখার অনুমোদন দেবে। বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংকের যেসব এসএমই সেন্টার রয়েছে, সেগুলোকেও শাখায় রূপান্তর করা যাবে। তবে বিভাগীয় শহরের বাইরে এসব শাখা স্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উপজেলাসহ পল্লী এলাকায় সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক স্থানগুলোতে শাখা খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এসব শাখায় বৈদেশিক লেনদেন ছাড়াও অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। শাখাগুলোকে তাদের সংগৃহীত আমানতের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ কৃষি ও এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করবে বলে জানা গেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার এক চুক্তি অনুষ্ঠানে বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে কৃষি শাখা খোলার অনুমতি দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা কৃষি ও এসএমই শাখার অনুমোদন বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কোনো ব্যাংক যদি এ ধরনের শাখার জন্য আবেদন করে তা হলে তাদের শাখা খুলতে দেওয়া হবে। এ শাখা সংখ্যার বিচারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বার্ষিক শাখা বরাদ্দের হিসাবের বাইরে থাকবে।’ সুতরাং কৃষি শাখা খুললে তা প্রচলিত শাখা খোলার সুযোগ সীমিত করবে মনে করার কোনো কারণ নেই বলে মত দেন ডেপুটি গভর্নর।এদিকে চলতি ২০০৯-১০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭.৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০০৯-১০ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে দেশের ব্যাংকগুলো মোট এক হাজার ৯১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সমপরিমাণ কৃষিঋণ বিতরণ করেছে।আর ২০০৮-০৯ অর্থবছরে একই সময় এক হাজার ৪৯৮ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিতরণকৃত কৃষিঋণ চলতি অর্থবছরের জন্য ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার সাড়ে ১৬ শতাংশ। সরকার চলতি অর্থবছর ১১ হাজার ৫১২ কোটি ৩০ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে।