বেশি কর্মসংস্থান নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানে

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) গত পাঁচ বছরে গড়ে ১০৫ দশমিক ৭ শতাংশের বেশি নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠানে। এই হার প্রায় ১৪৬ দশমিক ২ শতাংশ। এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা প্রথমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও পরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নতুন কর্মী যুক্ত হয়েছে। ফলে বর্তমানে কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে দেশের এসএমই খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। যদিও শুরুতে ব্যবসা করার জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র দেড় শতাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণসহায়তা পেয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্স ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) এক যৌথ গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘কর্মসংস্থান তৈরিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ গবেষণা করা হয় আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ৭৮২ এসএমই উদ্যোক্তার ওপর। পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ও পরিচালক বজলুল হক খন্দকার এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে অনলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সায়েমা হকের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন বজলুল হক খন্দকার। এ সময় তিনি বলেন, গবেষণা তথ্যের পুরোটাই করোনার আগের অবস্থার চিত্র। করোনার মধ্যে কর্মসংস্থানে নিশ্চয় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, এসএমই খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে সেবা খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে। এই হার ১৭৪ শতাংশ। এ ছাড়া শিল্পে ১৩১ শতাংশ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৭৪ শতাংশ, কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে ৩০ শতাংশ হারে কর্মসংস্থান হয়েছে। এর মধ্যে বেতনভুক্ত কর্মচারীর সংখ্যা বেড়েছে ১৩৪ শতাংশ হারে, দৈনিকভিত্তিক কর্মসংস্থান হয়েছে ৯৪ শতাংশ হারে ও পারিবারিক শ্রমের কর্মসংস্থান হয়েছে ৪৬ শতাংশ। বজলুল হক খন্দকার বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে গড় বিনিয়োগ ছিল ৩ কোটি টাকার মতো। আর বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রবৃদ্ধি নিয়ামক এমএসএমই খাত। কোরিয়া, জাপান, চীনেও তা–ই। কিন্তু এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের লবিং জোরালো না, এ জন্য তারা উপেক্ষিত। এই খাতে ঋণ বাড়াতে হবে, অন্য সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এই খাতের উদ্যোক্তা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকার উপকৃত হবে।’

অনুষ্ঠানে আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ খান বলেন, ‘আইডিএলসি একসময় শুধু করপোরেট ঋণ দিত। সেখান থেকে পরিকল্পনা করে ছোট আকারে এসএমই ঋণ বিতরণ শুরু করলাম। তখন আমরা বলতাম “স্মল ইজ বিউটিফুল”। ছোটদের ঋণ দিয়ে ভালো ফলও পেলাম আমরা।’

আরিফ খান আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণের ৪৬ শতাংশই এসএমই খাতে। অথচ পুরো খেলাপি ঋণের হার ৩ শতাংশের নিচে। আর নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ ৩৫০ কোটি টাকা। খেলাপির হার ১ শতাংশের নিচে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যাঁরা টাকা ফেরত দিচ্ছেন না, তাঁরা আবার আদালতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে এসএমই খাতের কেউ নেই।’

আরিফ খান বলেন, বড় করপোরেটদের সহজেই ঋণ দেওয়া যায়। এসএমই খাতে ঋণ দিতে অনেক কাজ করতে হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের সদিচ্ছা ছাড়া এসএমই খাতে ঋণ বাড়ানো যায় না।

মন্তব্য করুন