বেসিক ব্যাংককে টাকা দেওয়া হলে তা গর্তে বা জলে পড়বে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সচিবালয়ে আজ রোববার ‘রাষ্ট্র মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ও দুই বিশেষায়িত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত’ শীর্ষক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। 

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. ইউনুসুর রহমানসহ বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকেরা (এমডি) উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলধন ঘাটতি পূরণে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোকে আপাতত বাজেট থেকেই টাকা দেওয়া হবে। টাকা পাবে তারা আগামী এক মাসের মধ্যেই।
সরকারি মালিকানাধীন প্রত্যেকটি ব্যাংকই দুর্বল ব্যাংক উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এদের হয় মূলধন ঘাটতি আছে, নয় তো আছে প্রভিশন ঘাটতি। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শেষে দুটি সিদ্ধান্ত বেরিয়ে এসেছে। বাজেট থেকে টাকা দেওয়া ও বেসিক ব্যাংককে অন্য সবার থেকে আলাদা করে দেখা।
বেসিক ব্যাংক সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এর সমস্যাগুলো অন্যদের থেকে আলাদা। ব্যাংকটির নতুন নেতৃত্ব ভালো কিছু কাজ করেছে। যারা টাকা নিয়েছিল, তাদের আবিষ্কার করেছে। তাদের আবিষ্কার করাটাই একটা বড় মুশকিলের ব্যাপার ছিল। বিভিন্ন দেনা-পাওনার হিসাবও করেছে ব্যাংকটি।’
বেসিক ব্যাংককে অন্য ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমমানে বিবেচনা করা যাবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকটিকে পরিচর্যা (নার্সিং) করতে হবে। আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ভবিষ্যতে যখনই ব্যাংক খাত নিয়ে আলোচনা হবে, তা থেকে বেসিক ব্যাংককে আলাদা রাখা হবে।’
হাসতে হাসতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংক সামনে থাকলে সবাই এটা নিয়ে কথা বলেন। আর কোনো আলোচনা করা যায় না।
বেসিক ব্যাংককে টাকা দেওয়া মানে কি গর্তে টাকা ফেলা নয়—এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘না, না, না। এটা সত্য নয়। বেসিক ব্যাংককে এখন টাকা দিলে তা গর্তে বা জলে পড়বে না।’ এ সময় পাশে থাকা অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক এবার কিছু মুনাফাও করেছে।’
বেসিক ব্যাংকে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে মূলত আবদুল হাই বাচ্চু ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান থাকার সময়। ওই সময় ব্যাংকটি থেকে চার হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যায়। সরকার এরপর দুই বছরে বেসিক ব্যাংককে ২ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দিয়েছে।
আবদুল হাই বাচ্চুসহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তির কী হবে—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) কাছে কাগজপত্র আছে। তারাই ব্যবস্থা নেবে। অপেক্ষা করেন, দেখেন।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন