default-image

দেশে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের ইতিহাসে বিনিয়োগ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে এই খাতে ২ শতাংশ হারে বিনিয়োগ বাড়ছিল। অথচ তা এখন ২০ শতাংশ কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

আইইএর আশঙ্কা, ফসিল ফুয়েল বা জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের বিনিয়োগে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এর মধ্যে জ্বালানির ক্ষেত্রে তেলে ৩০ ও কয়লায় ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ কমতে পারে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ ১০ শতাংশ কমবে। অথচ বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এর দ্বিগুণ, অর্থাৎ, ২০ শতাংশ হওয়া দরকার।

জ্বালানি খাতের বৈশ্বিক সংস্থাটি জানায়, করোনার কারণে অনেক দেশেই লকডাউন বা অবরুদ্ধ অবস্থা চলার কারণে জ্বালানি খাতে সাময়িকভাবে বিনিয়োগ কমায় অবশ্য কার্বনদূষণ কমবে। কিন্তু করোনাজনিত সংকট কেটে গেলে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়বে। পরিবেশদূষণের মাত্রা তখন আবার বাড়বে।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফেইথ বিরোল বিবিসিকে বলেন, 'আমরা এখন ইতিহাসের সর্বনিম্ন কার্বনদূষণ দেখছি বটে। কিন্তু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে যথাযথ প্যাকেজ না নেওয়া হলে দূষণ আবারও রকেটের গতিতে ছুটবে। এতে চলতি বছরে কার্বনদূষণ যতটা কমবে, তা সম্পূর্ণ বৃথা যাবে।'

ফেইথ বিরোল বলেন, 'গত ২০০৮-০৯ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের কথাই মনে করে দেখুন। আমরা সংকটের তাৎক্ষণিক প্রভাবে কার্বনদূষণ কমতে দেখলাম। কিন্তু পরবর্তী সময় তা আবার বেড়ে গেল। তাই ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।'

বিরোল জানান, চলতি ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে কয়লাভিত্তিক নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনের হার ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আইইএ বলছে, সার্বিকভাবে জ্বালানি খাতে চলতি ২০২০ সালে প্রত্যাশার চেয়ে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার বিনিয়োগ কমেছে। চাহিদা ও দাম কমায় এমনটা হয়েছে। যে কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে তখন জ্বালানি সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে । কারণ জ্বালানি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরবরাহে যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। সূত্র: বিবিসি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0