default-image

ইউরোপের দেশগুলোতে যখন জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোঠায়, তখন বাংলাদেশ গড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যাও এখানে অবিশ্বাস্য হারে বাড়ছে। সে জন্য পশ্চিমা বিশ্বের প্রযুক্তিভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায়িক দিক থেকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল বাজারগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এরিকসনও এর ব্যতিক্রম নয়।
এরিকসনের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়োহান অ্যাডলার সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সরকার আয়োজিত ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’-এ অংশ নিতে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। এশিয়া অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ খাতে ২০ বছরের বেশি সময় কাজ করা এই কর্মকর্তা সম্মেলনের এক ফাঁকে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যবসার গুরুত্ব এবং বাংলাদেশে এরিকসনের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।
ইয়োহান অ্যাডলার বলেন, বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখছে মুঠোফোন। মুঠোফোনসেবা দিতে অপারেটরদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য একটি প্রতিষ্ঠান সুইডেনের এরিকসন। সুইডেনের নাগরিক লার্স ম্যাগনেস এরিকসনের হাতে ১৮৭৬ সালে টেলিগ্রাফ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করা এটি এখন বিশ্বের অন্যতম বড় বহুজাতিক মুঠোফোন নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের মুঠোফোন অপারেটরদের নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইয়োহান বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ ধরনের সম্মেলনে অংশ নেওয়া আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এখানে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মুঠোফোন অপারেটর এবং এ খাতে যুক্ত সবার মতামত জানার একটি চমৎকার মঞ্চ। টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা জানাও আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
বাংলাদেশে এরিকসনের কার্যক্রমের ব্যাপারে ইয়োহান বলেন, ‘নেটওয়ার্কড সোসাইটি’ স্লোগান সামনে রেখে ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে এরিকসন। বর্তমানে গ্রামীণফোনের প্রিপেইড গ্রাহকদের রিচার্জ-ব্যবস্থা, রবির রেডিও বেস স্টেশন ব্যবস্থাপনা ও এয়ারটেল বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোসেবা দিচ্ছে এরিকসন। এ ছাড়া অন্য অপারেটরগুলোরও নেটওয়ার্ক অবকাঠামোগত বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
চতুর্থ প্রজন্মের ফোরজি মুঠোফোন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে কবে নাগাদ চালু হবে—এ বিষয়ে এরিকসনের এই কর্মকর্তা বলেন, থ্রিজির পেছনে বাংলাদেশের মুঠোফোন অপারেটররা ইতিমধ্যে অনেক বিনিয়োগ করেছে, তাই এখনই তারা ফোরজিতে যেতে চাইবে না, এটা স্বাভাবিক। তবে কয়েক বছর পরে ফোরজিতে গেলেও তার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
এরিকসনের ব্যবসা সম্পর্কে ইয়োহান জানান, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। বর্তমানে বিশ্বের ১৮০টি দেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিষ্ঠানটি। এরিকসনের গবেষণা বিভাগ এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার প্রযুক্তি আবিষ্কারের স্বত্ব লাভ করেছে।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন