default-image

শৈশব থেকেই ব্যতিক্রমী কিছু করার দিকে ঝোঁক ওয়াহিদুজ্জামানের। ব্যতিক্রম চিন্তা করেই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি, কাজ করেও দেখিয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করে করতেন মশারির পাইকারি ব্যবসা। কিন্তু মন ভরছিল না তাঁর। চিন্তা করলেন উৎপাদনমুখী কাজে নিয়োজিত হবে। এতে মানুষের যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, নিজের আয়ও বাড়বে। ১৫ বছর আগের কাহিনি, ২০০৪-০৫ সাল। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা এলাকায় গড়ে তুললেন মশারি উৎপাদনের ছোট এক কারখানা। আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাঁ।

ওয়াহিদুজ্জামানদের দুটি কারখানা। একটি বোনাফাইড নিটিং মিলস লিমিটেড, যেটিতে শুধু মশারিই উৎপাদিত হয়। তাুও আবার শতভাগ রপ্তানিমুখী। অন্যটি বোনাফাইড কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড। এবারের গল্প রপ্তানিমুখী মশারি নিয়ে। বোনাফাইড নিটিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ‘দৈনিক ৫ লাখ মিটার উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন আমাদের কারখানা। ১০০ জন নিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন কমর্রত রয়েছেন ২ হাজার ৫০০ জন। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি হয় প্রায় ১ কোটি ডলারের মশারি।’

প্রতিবছর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ছে বলে সরলমনেই জানান ওয়াহিদুজ্জামান। বলেন, মাসে রপ্তানি হয় ৫৫০ থেকে ৬০০ টনের মতো। আর ৫০ ধরনের মশারি উৎপাদন করেন তাঁরা। এগুলোর দাম ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। আপাতত ভারতে রপ্তানি হলেও আফ্রিকার কিছু দেশে রপ্তানির চেষ্টা করছেন।

default-image

আরটেক্স, সেভকনটেক্স, শাহ টেক্স, অনীক টেক্সসহ আটুদশটি কারখানা গড়ে উঠার তথ্য জানিয়ে বলেন, এটি এখন হাজার কোটি টাকার মতো রপ্তানি আয়ের বাজার।
কথার ফাঁকে বোনাফাইড ব্র্যান্ডের মশারির কিছু বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরেন কোম্পানিটির এমডি। বলেন, অনেক সময় মশারির ছিদ্র দিয়েও মশা কামড়ায়। মাথা, হাত বা পায়ের কাছে নিচের দিকে মশারি একটু উঠে গেলেই এমন পরিস্থিতি হয়। তবে আমাদের মশারিগুলোর নিচের দিকটা এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে কোনোভাবেই মশা কামড়াতে না পারে। ভারতীয়দের কাছে আমাদের মশারির কদর রয়েছে। মশারির ভেতরে গিয়ে মশা কামড়িয়ে চিকুনগুনিয়া বা ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে আসতে না পারে বোনাফাইড মশারি তৈরির সময় এই দিকটা মাথায় রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0