default-image

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার মসলা, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, আটা, ময়দা, সাজসজ্জাসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় পাইকারি বাজার। দেশের প্রায় সব জেলা থেকেই ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। তবে টানা অবরোধ-হরতালে এই বাজার এখন প্রায় ক্রেতাশূন্য। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এমনটাই জানান মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক।
প্রথম আলাকে আবদুর রাজ্জাক জানান, ঢাকার বাইরে থেকে ক্রেতা আসতে পারছে না। বিক্রি নেই। ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। অনেক দোকানে তো মাঝেমধ্যে বউনিই হয় না সারা দিনে। এ ছাড়া পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেছে। বগুড়া, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরাঞ্চল থেকে আগে ১২-১৪ হাজার টাকায় এক ট্রাক পণ্য আনা গেলেও এখন লাগছে ২০-২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়া বেড়ে ২৫ হাজার টাকা হয়েছে। আগে ছিল ১৬-১৭ হাজার টাকা। শুধু যে ভাড়া বেড়েছে তাই নয়, টেনশনও বেড়ে গেছে। একটি ট্রাকে ৪০-৫০ লাখ টাকার পণ্য থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত না গুদামে পৌঁছাচ্ছে ততক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় আমাদের। কারণ, কখন-কোথায় নাশকতার ঘটনা ঘটে, সেটি তো আর বলা যায় না। তার পরও খাদ্যপণ্যের দোকানে কিছুটা বিক্রি হচ্ছে। যেখানে ১০ টিন বা বস্তা পণ্য বিক্রি হতো সেখানে ১ টিন বা বস্তা হচ্ছে। তবে মৌলভীবাজারের সাজ্জসজ্জার দোকানগুলো খাঁ খাঁ করছে। বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায়।
আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আয়-রোজগার না হলে খাবে কী। শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। মৌলভীবাজারের ১০ হাজার দোকানে কমপক্ষে ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের মধ্যে বড় অংশ আবার দিনমজুর। স্বাভাবিক সময়ে দিনে শ্রমিকেরা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করতে পারলেও এখন দিনে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার বেশি পাচ্ছে না। আর এই টাকা দিয়ে তো দুই বেলা খাওয়াই যায় না। আমার নিজের দোকানেই ৩০-৩৫ জন শ্রমিক কাজ করত। এখন ১০ জনও নাই। বাড়ি চলে গেছে।’
মৌলভীবাজারের এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এখন পণ্যের জোগান কম চাহিদাও কম। তাই সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু যেকোনো সময় এর একটি বিঘ্ন ঘটলেই ভোক্তা পর্যায়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসায় লগ্নি করছেন। তবে বর্তমানে বেচা-বিক্রি না থাকায় সবাই ব্যাংক ঋণের সুদ দিতে পারবেন কি না, সেই শঙ্কায় আছেন। ২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় যে ক্ষতি হয়েছিল সেটাই এখনো অনেক ব্যবসায়ী কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে পারলেও এ সংকটকালীন সময়ের জন্য সুদ মওকুফের কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকেও দাবি করে লাভ হয় না। এটা দুঃখজনক।

বিজ্ঞাপন
বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন