ব্যবসার ঝুঁকি: প্রধান ঝুঁকি জ্বালানির দাম

বিজ্ঞাপন
default-image

স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি পরিবেশদূষণের অর্থনৈতিক ঝুঁকিও আছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের রিজিওনাল রিস্ক ফর ডুয়িং বিজনেস ২০১৯ (ব্যবসা করার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ঝুঁকি-২০১৯) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশদূষণের কারণে বাংলাদেশের প্রতিবছর ৬৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত মাত্রায় দূষণ রাখা গেলে দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ১ দশমিক ৩ বছর বেড়ে যেত বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে দ্রুত নগরায়ণ হলেও নগর-পরিকল্পনায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। অথচ বাংলাদেশে ব্যবসার ঝুঁকির তালিকায় নগর-পরিকল্পনার দুর্বলতা পঞ্চম স্থানে। ভারতে ষষ্ঠ। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, ২০৩০ সালের ঢাকার জনসংখ্যা আরও এক কোটি বাড়বে। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে অবকাঠামো খাতে ব্যয় বৈশ্বিক হিসাবে তলানির দিকে। 

প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসার করার ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি দেশের জন্য আলাদাভাবে শীর্ষ পাঁচটি ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এসব ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য শীর্ষ পাঁচটি ঝুঁকি হচ্ছে: জ্বালানির দামজনিত অভিঘাত, সুশাসনজনিত ব্যর্থতা, বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের অভাব, আর্থিক খাতের ব্যর্থতা, নগর-পরিকল্পনার ব্যর্থতা। 

জ্বালানির দামজনিত অভিঘাত দক্ষিণ এশিয়ার জন্য পঞ্চম ঝুঁকি হলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য তা এক নম্বর। দক্ষিণ এশিয়ার জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক কার্যক্রমও বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই এখানে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। জ্বালানির প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। আর দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোকে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিতে হয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হ্রাস-বৃদ্ধির সঙ্গে সরকারের ভর্তুকি কমবেশি হয়। জ্বালানির দাম দক্ষিণ এশিয়াসহ বাংলাদেশের রাজনীতির বড় একটি বিষয়। 

প্রতিবেদনে পানিসংকটকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় পানির সমস্যা একই সঙ্গে ‘স্বল্পতা ও আধিক্যের’ সমস্যা। যদিও বাংলাদেশের নদনদীর কথা বিবেচনা করলে দক্ষিণ এশিয়ায় পানির সংকট আছে, সে কথা বিশ্বাস করা কঠিন। প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বসবাস হলেও নবায়নযোগ্য পানির পরিমাণ ৫ শতাংশেরও কম। পানির ব্যবহারও এখানে বেশি। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণে দক্ষিণ এশিয়া পিছিয়ে আছে, বৈশ্বিক মানদণ্ডে। 

বিশ্বের যে ১৭টি দেশে পানির সংকট অত্যন্ত তীব্র, ভারত তার মধ্যে অন্যতম। ২০২০ সালের মধ্যে নয়াদিল্লিসহ ২০টি শহরের ভূপৃষ্ঠস্থ পানি নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। এসব কারণে পানি এই অঞ্চলে ভূ–রাজনীতির অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। 

বাংলাদেশের ঝুঁকির প্রসঙ্গে গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকে এখন সুশাসনজনিত সমস্যা পাশ কাটিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছেন। এর সঙ্গে দেশের উৎপাদনশীল খাত বড় হচ্ছে। সে কারণেই সম্ভবত তাঁদের কাছে জ্বালানির দামই প্রধান ঝুঁকি, সুশাসন নয়। দেশে এখন অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। ফলে সুলভে ও সহজে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। জরিপটি করার সময় দেশে এলএনজির ব্যবহার শুরু হয়নি। এলএনজি আমাদের জ্বালানি সমস্যার সমাধান অনেকটাই দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, সব খাতের জন্য ঝুঁকি এক রকম হবে না। তৈরি পোশাক বা উৎপাদনশীল খাতের ঝুঁকি আর ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের ঝুঁকি এক রকম হবে না। তবে ঝুঁকিগুলোর মধ্যে যোগসূত্র আছে।

প্রতিবেদনে পূর্ব আফ্রিকা ও প্যাসিফিক, ইউরেশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, সাব-সাহারা আফ্রিকার আঞ্চলিক ঝুঁকির পাশাপাশি বৈশ্বিক ঝুঁকিও উল্লেখ করা হয়েছে। বৈশ্বিক পর্যায়ে শীর্ষ ১০টি ঝুঁকি হচ্ছে: রাজস্ব–সংকট, সাইবার হামলা, বেকারত্ব বা কর্মসংস্থানের অভাব, জ্বালানির দামজনিত অভিঘাত, জাতীয় পর্যায়ে সুশাসনের ব্যর্থতা, গভীর সামাজিক অস্থিতিশীলতা, তথ্য চুরি ও জালিয়াতি, আন্তরাষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব-সংঘাত, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যর্থতা ও সম্পদ বুদ্‌বুদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন