default-image

রাজধানীর গুলশান-১ নম্বরের আগুনে পুড়ে ধসে পড়া ডিএনসিসি মার্কেটের (ডিসিসি মার্কেট বলে পরিচিত) ব্যবসায়ীদের মুখে এখনো হাসি ফুটে ওঠেনি। নতুন করে অস্থায়ী দোকান তৈরি করে দেওয়া হলেও বিক্রিবাট্টা আগের মতো শুরু হয়নি। নতুন এই দোকান সাজাতে অনেকেই ঋণের জালে আটকে গেছেন। বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর কণ্ঠেই হতাশা। তাঁরা বলছেন, আগুন লাগার ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও লোকসান কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সময় লাগবে।

গত ২ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই আগুন লাগে গুলশান-১ নম্বরের জনপ্রিয় ডিএনসিসি মার্কেটে। এতে মার্কেটের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই অংশে কাঁচাবাজার, কসমেটিকস ও বিদেশি খাবারের দোকান ছিল। পুড়ে যায় এসব দোকানের মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মূল ভবনের দোকানগুলোও।

ভবনের ধসে পড়া অংশে সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ করা ২৯১টি দোকান ছিল। এ ছাড়া খালি জায়গায় শর্ত সাপেক্ষে আরও ২৫টির মতো দোকান ছিল। যার সব কটিই পুড়ে যায়। এ ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য ৩০৬টি অস্থায়ী দোকান তৈরি করে দেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। মার্কেটের সামনে ‘এ’ ব্লকে ৬৪টি দোকান ও ‘বি’ ব্লকে ১৮টি দোকান করা হয়। এখানে পাকা মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অস্থায়ীভাবে জায়গা পেয়েছেন। আর কাঁচা মার্কেটের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ‘সি’ ব্লক করে ২২৪টি দোকান করা হয়েছে। সব কটি দোকানই বাঁশ ও ত্রিপলের শেড দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটের অনেক দোকানে এখনো রঙের কাজ চলছে। অনেকগুলো দোকানের সাইনবোর্ডের অংশে নাম নেই। ক্রেতারাও এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করছেন। কেউ–বা খুঁজছেন দীর্ঘদিনের পরিচিত দোকান ও ব্যবসায়ীকে।

মার্কেটে আসা তাসনীমা নামের এক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বাচ্চার জন্য একটি পিয়ানো খুঁজছেন তিনি। তিনি বললেন, ‘শহরে সবচেয়ে ভালো খেলনা পাওয়া যায় এই মার্কেটটিতে। তাই এসেছি। তবে কয়েকটি দোকানে পছন্দ হলেও কিনতে পারলাম না। প্যাকেট খোলার পর দেখি কয়েকটাতে অল্প পোড়া দাগ।’

মার্কেটের যে অংশটি ধসে পড়েছিল, মূল ভবনের সেই অংশে দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্রেতাই সেদিকে দাঁড়িয়ে পুরোনো জায়গাটি খুঁজছিলেন।

default-image

পাকা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলেন, দেয়াল ও মার্কেটের ভেতরে নিজেদের অর্থে তাঁরা দোকান সংস্কার করে নিয়েছেন। দুই দফায় সাড়ে ছয় হাজার টাকা করে দিয়েছেন প্রত্যেক ব্যবসায়ী। আগে মার্কেটের ভেতরে বিভিন্ন দোকানের সামনে মালামাল রেখে বিক্রি করা হতো। তবে এখন ওইভাবে আর মালামাল রাখা নেই। চারদিক কেমন খালি পড়ে আছে। মার্কেটের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থাও এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়নি। এসি চালানো যায় না। গরমের সময়ে এ কারণে বিক্রি কম হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

মূল ভবনের বাইরে পার্কিংয়ের জায়গায় অস্থায়ী দোকানগুলোতে গিয়ে দেখা গেল, ধীরে ধীরে মালামাল তুলছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকেই অর্থাভাবে সব মালামাল তুলতে পারেননি। মাল তুলতে না পারায় বরাদ্দ দোকান পেলেও দোকান এখনো খোলেননি কেউ কেউ।

ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোতে কোটি টাকার ওপরে মালামাল ছিল। ক্যাশ টাকা পুড়ে গিয়েছিল। মালামাল তুলতে প্রচুর টাকা ঋণ করতে হয়েছে। বিক্রি না হলে লোকসান কাটানো যাবে না।

আরাফাত স্টোরের মালিক আরাফাত অল্প কয়েক দিন হলো বরাদ্দ করা দোকান চালু করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর বিদেশি বিস্কুট ও চকলেটের দোকান ছিল। দোকানভর্তি মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে।

একটি স্টেশনারির দোকানের মালিক মো. হোসেন বলেন, তাঁর স্টেশনারি ও খেলনার দোকান ছিল। আগুনে প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এখন নতুন করে ঋণ নিয়ে মাল তুলেছেন তিনি।

default-image

অস্থায়ী দোকানগুলোর জন্য দুর্ঘটনার ‍দিন থেকে তিন মাস ডিএনসিসিকে কোনো ভাড়া দিতে হবে না ব্যবসায়ীদের। এরপর থেকে দোকানপ্রতি ভাড়া দিতে হবে দুই হাজার টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসি পাবে ৩০০ টাকা আর দোকানমালিকেরা পাবেন ১ হাজার ৭০০ টাকা। বহুতল ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এই দোকানগুলো পরিচালনা করবে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন ভবন তৈরি করা হবে। তখন ওই নতুন ভবনে তাঁদের স্থায়ী জায়গা দেওয়া হবে।

১৯৮৩ সালে গুলশান-১-এ ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) অধীনের কাঁচা মার্কেটটি ২ দশমিক ৪৭ একর জমির ওপর তৈরি হয়। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন ছিল ১৫ হাজার ৪৮০ বর্গফুট। ২০০২ সালে এই মার্কেটের ভবনে কয়েকটি ফাটল দেখা দিলে পরে আর তৃতীয় ও চতুর্থ তলার নির্মাণকাজ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন