default-image

বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আছেন বলে মন্তব্য করলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ভালো থাকলে ব্যাংকগুলোও ভালো থাকবে।
সচিবালয়ে আজ বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ঋণের কিস্তি না দিলেও কোনো ব্যবসায়ীকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করা যাবে না—আগে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংক গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে তা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ায়। বলা হয়, ঋণের ওপর দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত মাশুলও আরোপও করা যাবে না এই সময়ে, বরং কেউ ঋণ শোধ করে নিয়মিত গ্রাহক হলে খেলাপি গ্রাহকের তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এতে ব্যাংকগুলোর আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার জন্যই সময় বাড়ানো হয়েছে। শুধু আয় নয়, অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, আমরা বৃহত্তর স্বার্থে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আছি। গত বছর প্রতিটি ব্যাংকই ভালো করেছে। প্রত্যেকেরই স্থিতিপত্র (ব্যালেন্স শিট) ভালো। খেলাপি ঋণের পরিমাণও কমতির দিকে। আমি মনে করি, গ্রাহকদের সাহায্য করার জন্য ব্যাংকগুলোর এটাই ভালো সময়।’

বিজ্ঞাপন
যে মুহূর্তে খেলাপি হয়ে যাবে ঋণ, সেই মুহূর্তে স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। এই সময়ে তা করা ঠিক হবে না।
আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রাহকেরা ব্যাংকের, সরকারের নয়। গ্রাহক উপকৃত হলে দিন শেষে লাভবান হবে ব্যাংকগুলোই। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কোনো গ্রাহককে খেলাপি ঘোষণা করে কষ্ট দিচ্ছে না। সুতরাং, তাদের ব্যবসায়ে প্রভাব পড়ার কোনো কারণ নেই।
সুযোগ দিলেও টাকা মাফ করে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন মুস্তফা কামাল। বলেন, ‘টাকা আমরা পাব। সময় না বাড়িয়ে যদি বাধা সৃষ্টি করা হয়, তাহলে রপ্তানি আদেশগুলো বাস্তবায়ন করা যাবে না। আমদানির ঋণপত্রগুলোও (এলসি) নিষ্পত্তি করা যাবে না। যে মুহূর্তে খেলাপি হয়ে যাবে ঋণ, সেই মুহূর্তে স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। এই সময়ে তা করা ঠিক হবে না।’
করোনা আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে ঋণ, দুই মাসের সুদ মওকুফ, নামমাত্র সেবা মাশুল নিয়ে ঋণ ইত্যাদি সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য পড়ুন 0